সেনা নির্যাতনে রোহিঙ্গারা পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের ফেলে আসা গ্রাম ও জমিজামায় ঘাঁটি তৈরি করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কোন কোনও ক্ষেত্রে এখনও ধ্বংস না হওয়া ঘরবাড়ি নতুন করে জ্বালিয়ে দেয়ারও আলামত মিলেছে। স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে এ সব তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হত্যাযজ্ঞ চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জমি অধিগ্রহণ করেছে মিয়ানমার সরকার। দখলকৃত জমির মধ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রামের পাশপাশি তাদের বেশ কিছু পতিত জমিও রয়েছে। দখল করার পর পুলিশ সেখানে পতাকা টানিয়ে দিয়েছে। এসব স্থানে গবাদি পশু নিয়ে যেতেও গ্রামবাসীকে সতর্ক করে দিয়েছে পুলিশ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব গ্রাম থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে রোহিঙ্গারা পালিয়ে গেছেন সেসব গ্রামেই ঐ রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা জমি ও ভিটে-বাড়ির ওপর ঘাটি তৈরি করেছে সেনাবাহিনী। জানুয়ারিতে অ্যামনেস্টির গবেষণায় রাখাইনে বহু গ্রাম বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে এবং আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়ার আলামত উঠে এসেছিল।
সংস্থাটির নতুন করে দেওয়া বিবৃতি থেকে জানা গেল, বুলডোজারে গ্রাম গুঁড়িয়ে দেয়ার সঙ্গে সেনাঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণেরও সম্পর্ক রয়েছে।
স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অন্তত তিনটি নিরাপত্তা ঘাঁটি নির্মাণের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে। স্যাটেলাইট ইমেজে ডিসেম্বরে সহিংসতা থেমে যাবার পরও নতুন করে চারটি মসজিদ ধ্বংস করে দেওয়ার আলামত পেয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। একটি রোহিঙ্গা গ্রামে সদ্য ধ্বংস করা মসজিদের অবস্থানে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করতে দেখেছে সংস্থাটি।