নানা আয়োজনে পালিত হলো বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস।
সাত দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাপনীতে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বক্তারা জাতির জনকের আদর্শে শিশুদের গড়ে তুলতে অভিভাবকের প্রতি আহবান জানান।
আর বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিভ্রান্ত রুখতে আহ্বান জানান বাংলা একাডেমির আলোচনায় বক্তারা। অন্যদিকে চারুকলায় চিত্রাংকন প্রতিযোগীতায়ও বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে শিশু-কিশোররা।
এদিকে, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ ও সরকার। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছানো ও ক্রিকেটে জয় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সুখবর নিয়ে এসেছে।
সাত মার্চ যে ভাষণের মধ্য দিয়ে গোটা বাঙালি জাতিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে একত্রিত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। সে ভাষণ এখন এ প্রজন্মের কন্ঠে— গানে-কবিতায় ভাষণেও।
জাতির জনকের জন্মদিন উদযাপনে শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত সাতদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল জাতীয় নাট্যশালা প্রাঙ্গন। গল্প-কবিতা আর গানে মাতিয়ে তুলেছিল পুরোটা দিন।
আড়াই হাজার ফুটের ক্যানভাসে রঙ তুলিতে আপন মনে এঁকেছে বঙ্গবন্ধুকে। কেউ জানাচ্ছে জন্মদিনের শুভেচ্ছা, কেউ জয় বাংলার ধ্বনি। আবার কেউ লিখেছে কবিতা।
আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব যারা দেবে তাদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকলিয়াকত আলী লাকী জানান, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিজেদের গড়ে তুলতে।
চারুকলা ইনস্টিটিউটে গৌরব একাত্তর আয়োজন করে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার।
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শিরোনামে এই প্রতিযোগীতায় অধিকাংশ শিশুই নিজের চিন্তায় বঙ্গবন্ধুকে এঁকেছে ক্যানভাসে।
বাংলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলোচনা সভার। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা তুলে ধরেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।
শিশু একাডেমিতে আয়োজন করা হয় বই মেলার। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজন করে আনন্দ শোভাযাত্রার।
এদিকে, সারাদেশে নানা আয়োজনে পালিত হয় বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস। জাতির জনকের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে শিশু-কিশোরদের নিয়ে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা।
বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছিলো নানা আয়োজন। শনিবার সকালে বরিশালে শোভাযাত্রা বের করে জেলা প্রশাসন। আয়োজন করা হয় শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
বগুড়া জিলাস্কুল থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এছাড়াও আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে আরেকটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শ্রদ্ধা জানানো হয় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীতে চট্টগ্রাম নগরভবনে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। পরে সিটি করপোরেশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা হয় এবং মোনাজাত করা হয়। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের করা হয় শোভাযাত্রা।
ব্যাতিক্রমী আয়োজনে কিশোরগঞ্জে পালন করা হয় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। পাকুন্দিয়ার প্রায় দুইশ শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধুর আদলে সেজে শোভাযাত্রা করে। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁয় ফেস্টুন উড়ানো, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালন করা হয় বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস। বঙ্গবন্ধু বিষয়ক আলোচনা ও শিশুদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গাইবান্ধায় উদযাপন করা হয় দিনটি।
এছাড়া নানা আয়োজনে রাজবাড়ি, মুন্সীগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর, সাভার, সাতক্ষীরা, নড়াইল, নেত্রকোণা, যশোর, ময়মনসিংহ, রংপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, কুমিল্লা, পটুয়াখালী, নাটোরসহ সারাদেশে দিনটি পালন করা হচ্ছে।