জাতীয়

অপারেশন সার্চলাইট' নিধনযজ্ঞ-ইতিহাসের বর্বরতম নির্বিচার গণহত্যা

অপারেশন সার্চলাইট' নিধনযজ্ঞ-ইতিহাসের বর্বরতম নির্বিচার গণহত্যা
অপারেশন সার্চলাইট' নিধনযজ্ঞ-ইতিহাসের বর্বরতম নির্বিচার গণহত্যা
গণহত্যার কালরাত্রি- একাত্তরের ভয়াল ২৫ মার্চে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী। আমাদের স্বাধীনতার স্পৃহাকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করতে এ রাতে চলে 'অপারেশন সার্চলাইট' নামের নিধনযজ্ঞ-ইতিহাসের বর্বরতম নির্বিচার গণহত্যা। কেবল ঢাকা শহরেই হত্যা করা হয় প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে। স্বাধীনতার ৪৭ বছরে এসে গতবছর থেকে ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হলেও সামনে এসেছে একাত্তরের গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও দিনটিকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণার দাবি। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণেই বঙ্গবন্ধু জানিয়ে দিয়েছিলেন কী করতে হবে। তাতেই ছিল স্বাধীনতার ডাক। একাত্তরের মার্চের সেই দিনগুলোয় তখন আগুন ঝরছিলো। "বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো"- এই স্লোগানে মিছিলমুখর সারা দেশে প্রতিরোধ যুদ্ধের দামামা। পাকিস্তানিরা ব্যস্ত আলোচনার ফাঁদ পেতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করার সমরপ্রস্তুতিতে। আলোচনার নাটক ভেঙে পড়ার পরই আসে ২৫ মার্চের ভয়াল রাত। সেই রাতে ঢাকার ঘুমন্ত মানুষের ওপর রক্তক্ষুধা নিয়ে হামলে পড়ে হানাদার পাকিস্তানিরা। ট্যাংক নামে রাজপথে, ছুটে চলে সাঁজোয়া বহর। গর্জে উঠে ঘাতকের অস্ত্র। নিরীহ, নিরস্ত্র মানুষের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠে বাতাস। জনপদে তখন পাকিস্তানি হায়েনাদের পৈশাচিক তাণ্ডব। মানব ইতিহাসের কালিমালিপ্ত ওই অধ্যায়ে স্তম্ভিত হয় বিশ্ববিবেক। প্রথমেই ইপিআর পিলখানা, তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনে মেশিনগান, মর্টার আর ট্যাংক আক্রমণে বাঙালির প্রতিরোধকে অংকুরেই শেষ করে দিতে চেয়েছিল পাকিস্তানিরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল ছিল ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের সুতিকাগার। হামলা হয় সেখানেও, নৃশংসতার ভয়াবহতা ছিল জগন্নাথ হলেও। শিক্ষক-ছাত্রদের নির্বিচারে হত্যার পর মাটিচাপা দেয়া হয় সেখানেই। পুরান ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও চলে হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ- হানাদারদের পৈশাচিক বর্বরতা। তবে সেই বর্বরতায়ও থমকে যায়নি সবকিছু। বাঙালির রক্তে প্রতিশোধের আগুন জ্বলে মৃত্যুঞ্জয়ী প্রত্যয়ে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ছড়িয়ে পড়ে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা। আত্মত্যাগে বলীয়ান বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। প্রতিবছরই স্মরণ করা হয় গণহত্যার সেই কালরাত্রিকে। আলোর মিছিলে শ্রদ্ধায় বিনম্র হয় বাংলাদেশের মানুষ। জাতীয় সংসদে গণহত্যা দিবসের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাসের পর গত বছর থেকে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয় সরকার। যথাযোগ্য মর্যদায় ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সেই হত্যাযজ্ঞের, নৃশংসতার, ভয়াবহ গণহত্যার স্বীকৃতি পেতে সরকারকে আরো তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান বিশিষ্টজনেরা। এবারই প্রথমবারের মত পালিত হতে যাওয়া গণহত্যা দিবসে রাত ৯টায় ১ মিনিট সারাদেশে 'ব্ল্যাক আউট' থাকবে। সমস্ত আলো নিভিয়ে দেয়া হবে। তবে হাসপাতালসহ বিভিন্ন জরুরি স্থাপনা এ কর্মসূচির আওতায় পড়বে না।
দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ