যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে তারা কখনও রাজাকারদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
পঁচাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে রাজাকারদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করে দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলতে চেয়েছিল জেনারেল জিয়াউর রহমান।
সে অবস্থা থেকে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে ফিরিয়ে আনতে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এদেশ আর জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের হবে না, এদেশ রাজাকারদের দেশ হবে না, এদেশ হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দেশ।
স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিউটে।
প্রধানমন্ত্রী তার কথার শুরুতেই পাকিস্তান সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সরকারি চাকরিতে বাঙালিদের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, সে অবস্থান পরিবর্তন করতে অধিকার আদায় করতে বহু আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয় যা পরবর্তীতে পরিণত হয় যুদ্ধে।
যুদ্ধ শেষ হয়ে দেশ স্বাধীন হলেও এদেশে থেকে যাওয়া রাজাকারদের দৌরাত্ম কখনও দমন করা যায়নি— জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করে স্বাধীনতা বিরোধীরা অবৈধ ক্ষমতা গ্রহণ করে সেই রাজাকারদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলা হচ্ছিল বলে জানান তিনি।
নানা উত্থান পতনের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম ক্ষমতা গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষার উদ্যোগ নেয় বলেও জানান শেখ হাসিনা।
যে মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে স্বাধীন দেশ পাওয়া গেল, তাদের এবং তাদের পরিবারকে পেছনে রাখা বড় ধরনের অকৃজ্ঞতা। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নেয়া উদ্যোগের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
পাশাপাশি দারিদ্রতা কমিয়ে আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন করে বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় যাবার যোগ্যতা অর্জন করা একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই পেরেছে— এ ধারা অব্যাহত রাখার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি-জামাতের সময়ে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের উত্থান নির্মূল করে দেশে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখাও সরকারের অন্যতম সফলতা বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশ আর জঙ্গিদের রাজাকারদের হবে না এদেশ হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার।