রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরকে যুক্ত করবে বাংলাদেশ জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
মিয়ানমার সরকারের নির্যাতন থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, শিগগিরই মিয়ানমারকে দ্বিতীয় দফায় আরেকটি তালিকা পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, এসব প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই রোহিঙ্গাদের ফেরৎ পাঠাতে চায় বাংলাদেশ।
মিয়ানমার সরকারের নির্যাতন অত্যাচার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় দশ লাখ ছাড়িয়েছে। এরইমধ্যে এদের বিশাল অংশের নিবন্ধনের কাজও শেষ করেছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চাপ ও বাংলাদেশ-মিয়ানমারের দ্বিপাক্ষিক চেষ্টায় এদেরকে নিজ দেশে ফেরৎ পাঠাতে তালিকা পাঠালেও তা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। এবার এই প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরকেও যুক্ত করতে চায় বাংলাদেশ।
সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
তিনি আরও জানান, প্রথম দফায় ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমার সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এবার দ্বিতীয় দফায় আরেকটি তালিকা পাঠানো হবে। আর এর মধ্য দিয়ে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে "অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন"-ওআইসি পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের ৪৫তম সম্মেলনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত সেমিনারে অংশ নেন তিনি।
সে প্রসঙ্গে বলেন, ওআইসি সম্মেলন বাংলাদেশেরে জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সেখানেও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে উপায় খোঁজার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায়কে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন তারা।
আসছে মে মাসে ঢাকায় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বের ৫৭ দেশের মন্ত্রী ও মন্ত্রী পর্যায়ের অতিথিদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই সম্মেলন।