রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া দেশে দুর্নীতি কমানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা।
দুর্নীতি দমনে তাই রাজনীতি, প্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন সেমিনারে আসা বক্তারা।
তারা বলেন, এক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদককে ন্যায়পালের ভূমিকা রাখতে হবে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে দুর্নীতিবাজরা যাতে অংশ নিতে না পারে সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে তারা এ সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান।
নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা স্বত্বেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
রোববার রাজধানীতে এক আলোচনায় এসব বিষয় উঠে এসেছে।
দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহের শেষ দিনে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন ব্যবস্থা: দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের নিয়ামক' শীর্ষক এই সেমিনারে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, জনপ্রতিনিধি, বিচারবিভাগ, গণমাধ্যম, বেসরকারি সংস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
জনপ্রশাসন, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সরকারের সেবাখাত আর রাজনীতি, অর্থনীতির সর্বত্র দুর্নীতির আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
এজন্য আইনের শাসন-জবাবদিহিতার অভাবের পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকেও আলোচকরা দায়ী করেন।
আলোচনায় ছিলেন এম আমির উল ইসলাম, ইফতেখারুজ্জামান ও মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বদিউল আলম মজুমদার, জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং ইব্রাহিম খালেদ।
আগামী নির্বাচনে কীভাবে দুর্নীতিবাজদের প্রতিরোধ করা যায় সেবিষয়ে দুদককে ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন তারা।
কোচিং বাণিজ্য ও প্রশ্নফাঁসের বিষয়টিও উঠে আসে আলোচনায়। সেই সঙ্গে পানামা পেপারস ও প্যারাডাইস পেপারস-এ নাম আসাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান বিশিষ্টজনরা।
দুর্নীতি প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা চেয়ে দুদক চেয়ারম্যান জানান, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক প্রতিনিধি, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তাসহ সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে দুদক কাজ করে যাচ্ছে।