সরকারের প্রাক্কলন ছাড়িয়ে গেছে জিডিপির প্রবৃদ্ধি—পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএসের সাময়িক হিসেবে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আর মাথাপিছু আয় ১৭৫২ ডলার।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিষয়টি অবহিত করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল।
দুপুরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
চূড়ান্ত হিসেবে প্রবৃদ্ধি আরো বাড়তে পারে বলেও জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে কোনো বেকার নেই।
বন্যা ঝড়-ঝঞ্চা সত্ত্বেও বিবিএসের হিসেবে এবার কৃষিতে উৎপাদন বেড়েছে ৩ শতাংশেরও বেশি।
শিল্প উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ছাড়িয়ে গেছে গতবারের হিসেবও— এ খাতে এবার উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১২শতাংশ।
পরিবহন, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ বিভিন্ন সেবা খাতের উৎপাদন এবার গত বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি।
এরসঙ্গে অন্য আরো ১৩টি খাতের হিসেব মিলিয়ে বিবিএস বলছে, এবার মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
সকালে একনেক সভায়, দেশের এ রেকর্ড প্রবৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমানে ১৭৫২ ডলার মাথাপিছু আয়ের হিসেবও দেন প্রধানমন্ত্রীকে।
পরে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, রেমিট্যান্স, রপ্তানি এবং বিনিয়োগ বাড়ার প্রতিফল হয়েছে জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে।
বিবিএসের হিসেব অনুযায়ী, জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, কিন্তু কর্মসংস্থানের তথ্যের সঙ্গে এ প্রবৃদ্ধির মিল নেই। তাদের হিসেব অনুযায়ী গত এক বছরে দেশে বেকার বেড়েছে ৮০ হাজার। কিন্তু বিবিএসের এ তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পরিকল্পনা মন্ত্রীর।
বর্তমানে দেশে জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩১.৪৭ শতাংশ। আগে যা ছিল ৩০.৫১ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরো বলা হয়, চলতি অর্থবছরে মাথাপিছু আয় আগের বছরের চেয়ে ১৪২ ডলার বেড়ে ১ হাজার ৭৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়াও সভায় বেশ কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।