সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরুদ্ধ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা।
আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক হাসান আল মামুন বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন চলছে। আমরা চাই এই অধিবেশন থেকেই ঘোষণা দেয়া হোক কোটা পদ্ধতি সংস্কারের। সংসদে আমাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিলে তবেই আমরা রাস্তা ছাড়ব।
এদিকে, কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা।
কেন্দ্রীয়ভাবে রোববার বেলা ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে রাজু স্মৃতি ভাস্কর্য হয়ে নীলক্ষেত ও কাঁটাবন ঘুরে শাহবাগের মোড়ে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে তারা।
শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা শাহবাগের মূল রাস্তায় অবস্থান নেয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন হাজারো শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী।
পাঁচ দফা দাবিতে সারাদেশে এই গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করছে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’।
আন্দোলনকারীরা কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়ে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড বহন করছেন
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, চাকরিতে কোটা সব মিলিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানাই।
দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তারা।
বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৫৫ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের অগ্রাধিকার কোটা রয়েছে। আর বাকি ৪৫ শতাংশ নিয়োগ হয় মেধা কোটায়।
কোটা পদ্ধতির সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও জেলা পর্যায়ে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন চাকরি প্রত্যাশীরা।
দাবিগুলো হলো- কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ ভাগ থেকে ১০ ভাগে নিয়ে আসা, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্যপদে মেধা তালিকা থেকে নিয়োগ দেয়া, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা নির্ধারণ করা এবং চাকরি নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা।