প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করে দক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)—একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়ক-মহাসড়কে ওভারলোড বন্ধ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি আদায়েও সুপারিশ করেছে তারা।
রোববার বিকালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে হস্তান্তর করা ২০১৭ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে গণপূর্ত অধিদপ্তর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগ, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের মতো সরকারের অধীনস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতেরও সুপারিশ করেছে দুদক।
পরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি অনুসন্ধানে বিগত দিনের মতো সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে দুদকের।
নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিকালে ২০১৭ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করতে বঙ্গভবনে যান দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদনের কপি হস্তান্তর করেন।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর, আয়কর বিভাগ, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগসহ মোট ৯টি খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ, দীর্ঘ সুত্রিতা লাঘব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও নিশ্চিত এবং উত্তম বিকাশে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান।
তিনি জানান, বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে— ধারাবাহিক প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকিয়ে দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সে ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে।
রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সড়ক দুর্ঘটনা রোধেও ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
গত বছর দুদকের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের ধারাবাহিকতায় এবারও দুর্নীতি প্রতিরোধে, ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে দুদক আরো বেশি তৎপর হবে।
প্রতিবেদনে প্রকাশ করা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে দুদকে অভিযোগের সংখ্যা বেড়েছে, মামলার সংখ্যা কমেছে এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে ফাঁদ পেতে অপরাধী শনাক্ত করার সংখ্যা বাড়ছে।