শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান চায় ভারত বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে।
সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ দুই দেশকেই সহযোগিতা করছে ভারত বলে জানান বিজয় কেশব।
সোমবার বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা জানান ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে গোখলে বলেন, দুই দেশ সন্ত্রাস দমনে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে— এ দুই দেশের মানুষে মানুষে যোগাযোগকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ উচ্চতায়।
এ সময় বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনে শুভেচ্ছা জানান গোখলে।
পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বৈঠকের বিষয়ে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ তিস্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা যত দ্রুত সম্ভব এটি সমাধান করবে বলে জানিয়েছে।
বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে ৬টি সমাঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।
সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রচেয়ার প্রতিষ্ঠা, ভারতের শিলিগুড়ি এবং বাংলাদেশের পাবর্তীপুরের মধ্যে পাইপলাইন স্থাপন, বাংলাদেশের ৫০৯টি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং রংপুরে সিটি করপোরেশনে রাস্তার উন্নয়ন কাজ সংক্রান্ত মোট ৬টি সমঝোতাস্মারকে স্বাক্ষর করা হয়। এর আগে যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন সফররত ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। এসময় রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। আলোচনা হয় তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুতেও।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় বৈঠক শুরু হয়। তারও আগে কেশব গোখলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
ভারতের নতুন পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে রোববার বিকেলে তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে তার এটি বাংলাদেশে প্রথম সফর।
সফরকালে বিজয় কেশব গোখলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।