রাখাইনে সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ থেকে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনইএইচসিআরের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে সংস্থাটির সদরদপ্তরে এ স্মারক সই হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ চুক্তির মাধ্যমে রোহিঙ্গারা যে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত গেছেন, এর মাধ্যমে সেটিও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বেশ কয়েকটি তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায় কোনো এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী। হামলার জন্য দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করে তাদের ওপর নির্বিচারে নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। এরপর থেকেই রাখাইন ও আরকান রাজ্য থেকে কক্সবাজারের টেকনাফসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখেরও বেশি।
এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশের মধ্যে দুটি চুক্তি সই হয়েছে। গত জানুয়ারিতে সরকার ও শরণার্থী সংস্থা তথ্য সরবরাহ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। যা মূল প্রত্যাবাসন চুক্তির সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
এবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক ও ইউএনএইচসিআরের মহাপরিচালক ফিলিপো গ্র্যান্ডি নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ১৯৯২ সালের চুক্তির আদলে এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করে সই করা হয়েছে। এর ফলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটা সহজ হবে উল্লেখ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় আরো বলা হয়, স্মারকে রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের অধিবাসী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এতে প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার ভূমিকা ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিশদভাবে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে সফর করা মিয়ানমারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে জানান, দুপক্ষের প্রস্তুতি অনুযায়ী শিগগিরই তাদের ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। তবে নাগরিকত্ব পেতে ফিরে গিয়ে তাদের আবেদন করতে হবে।