রাজধানীতে দুই বাসের বাসের চাপায় পড়ে হাত হারিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কলেজছাত্র রাজীব হোসেনের দুই ভাইয়ের পড়ালেখার দায়িত্ব সরকার নেবে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
বাবা- মা- বড় ভাই কেউ নাই তাদের দেখার। গতকাল হাসপাতালে বড় ভাই রাজীবের মরদেহ গ্রহণ করার সময় সরকারের কাছে এ ছোট দু ভাই দেখাশোনার করার আকুতি জানায়।
গতকাল সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া রাজীবের মেজো ভাই মেহেদী হাসান বলছিল, ‘এখন তো আর ভাইয়া নেই। কী হবে জানি না। আমাদের তো আর চলার গতিও নেই।’
এসময় পাশেই তার ছোট ভাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর তামিরুল মিল্লাত দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সে। মেহেদীও একই প্রতিষ্ঠানে পড়ছে।
মেনন বলেন, রাজীবের পরিবার চাইলে তার ছোট দুই ভাই মেহেদি ও আব্দুল্লাহর পড়ালেখার দায়িত্ব নেবে সরকার।
একইসঙ্গে রাজীবের পরিবারের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে জানান মন্ত্রী।
গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে বিআরটিসির একটি বাসের সঙ্গে স্বজন পরিবহনের একটি বাসের রেষারেষিতে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজীবের।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
গত সোমবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে রাজীব হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
আজ- বাউফলে গ্রামের বাড়িতে রাজীবের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বাউফল উপজেলার বাসিন্দা রাজীব তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াকালে মা এবং অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালে বাবাকে হারান। এরপর মতিঝিলে খালা জাহানারা বেগমের বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিতুমীর কলেজে স্নাতকে ভর্তি হয়ে যাত্রাবাড়ীতে মেসে থেকে পড়াশোনা করছিলেন রাজীব। পাশাপাশি তিনি একটি কম্পিউটারের দোকানেও কাজ করতেন। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট দুই ভাইয়ের খরচও চালাতে হতো তাকে।
দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল: