সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে করা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষক।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় গতকাল বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা এ চিঠি উপাচার্য বরাবর পাঠিয়েছেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে জানার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এসব শিক্ষকরা।
তারা হলেন: এম এম আকাশ, গীতি আরা নাসরীন, ফাহমিদুল হক, মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সামিনা লুৎফা, মোহাম্মদ আজম, মোশাহিদা সুলতানা, কাজী মারুফুল ইসলাম, রোবায়েত ফেরদৌস, সায়মা আহমেদ, মুনাসির কামাল, সাজ্জাদ এইচ সিদ্দিকী, রুশাদ ফরিদী, মো. সেলিম হোসেন, হুমায়ুন কবীর, আব্দুর রাজ্জাক খান, সালমা চৌধুরী, দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন ও অতনু রাব্বানি।
গতকাল তারা উপাচার্যের সঙ্গে দেখাও করেছেন জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্য মহোদয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথভাবে দেখভাল করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন নেতাকে পুলিশ ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা হয়রানির অভিযোগ তোলার প্রেক্ষাপটে শিক্ষকরা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের কোটাসংস্কার আন্দোলনের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা আসার পর আন্দোলন একটি পর্যায় পেরিয়েছে এবং এর পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিৎ সরকারি গেজেট প্রকাশ। কিন্তু নানা সূত্রে জানা যাচ্ছে, তার পূর্বেই আন্দোলনকারীদের ওপর নানান চাপ আসছে। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়-ভীতি কাজ করছে এবং অনেকে ছাত্রাবাসে থাকতে অস্বস্তি বোধ করছেন।
আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী তিন শিক্ষার্থীকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এ অস্বস্তি আরও বেড়েছে বলে চিঠিতে বলা হয়।
এই শিক্ষকরা আন্দোলনের মধ্যে উপাচার্য ভবনে হামলার নিন্দাও জানিয়েছেন— হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যলয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু রাখার জন্য ডাকসু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠন ও নির্দলীয় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নিয়ে পরিবেশ পরিষদের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে ও হল কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন এ শিক্ষকরা।
গত সোমবার সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসায় ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।
গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান এ দাবির কথা বলেন। তারপর পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল্লাহ নূরকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। পরে এ সংবাদ ক্যাম্পসে পৌঁছালে আবার তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
গত ১১ এপ্রিল -বুধবার কোটা নিয়ে যখন এতোকিছু তাহলে কোটাই থাকবে না—কোনো কোটারই দরকার নেই জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, বিসিএস পরীক্ষায় কোটার দরকার নেই- মেধা অনুযায়ী নিয়োগ হবে আর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।