আইন রয়েছে কিন্তু এর যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার কারণেই দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, সরকার যদি বিষয়টি কঠোর অবস্থানে না যায় তবে শুধু আলোচনা করে এই সমস্যা কখনোই সমাধান হবে না।
তবে, পরিবহন শ্রমিক নেতারা বলেন, দুর্ঘটনা রোধে চালকদের প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যবস্থার পাশাপাশি দিনশেষে মালিকদের টাকা জমার টার্গেট প্রথা বাতিল করতে হবে।
নৌ সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির এক প্রতিবেদনে দেখা যায় গত বছর সারা দেশে ৩ হাজার ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ২৮৪ জন নিহত এবং ৯ হাজার ১১২ জন আহত হয়েছেন। এ বছর বেশ কিছু সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটলেও আলোচিত ছিলো সাম্প্রতিক সময়ে দুই বাসের চাপায় পিষ্ঠ হয়ে হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীবের মারা যাওয়ার ঘটনাটি।
ফিটনেসবিহীন গণপরিবহণ চালানোর পাশাপাশি চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকার কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিমত বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে নেতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, প্রতিটি দুর্ঘটনার পর এটি নিয়ে আলোচনা চললেও দুর্নীতি আর এই বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে পরিবহন খাতে নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সড়ক দুর্ঘটনার কারণে শুধু মানুষেরই প্রাণহানি ঘটছে না এতে অর্থনীতির অনেক ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলেন, সরকার যদি আইনের যথাযথ প্রয়োগ কঠোরভাবে করতে পারে তাহলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে পথচারীদেরকেও সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেন তারা।
সেমিনারে বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা বলেন, গণ পরিবহন মালিকদের নির্ধারিত জমার টাকা তোলার জন্য চালকরা বেপোরোয়াভাবে গাড়ি চালাতে বাধ্য হন। এটি বন্ধ করার পাশাপাশি চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নিলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব হবে।