দাদির মৃত্যুতে শোকার্ত ছোট্ট শিশু সেঁজুতির চিঠির জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চিঠি লিখেছে তার ওই প্রিয়জনের মতো দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে— প্রধানমন্ত্রীও চিঠির জবাবের সঙ্গে নিজের একটি ছবি ও দিয়েছে ছোট্ট এ মেয়েটিকে।
দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সেঁজুতির প্রত্যাশা পূরণ করতে নিজের একটি ছবিও তাকে পাঠিয়ে শুভ কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া গ্রামে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে সৈয়দা রওনক জাহান সেঁজুতি। বাবার নাম সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। তিনি মোগরাপাড়া এইজিজিএস স্মৃতি বিদ্যায়তনের সহকারী শিক্ষক।
কিছুদিন আগে সেঁজুতির দাদু মারা যান। মন খারাপ সেঁজুতি তার হারানো দাদুকে খুঁজে পান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাঝে।
দাদুকে হারানোর এই কষ্টের কথা খুলে বলতে সেঁজুতি গত ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর একটি চিঠি লিখে। চিঠি পেয়ে সেঁজুতির মনের অবস্থা বুঝতে পেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিঠির জবাব দেন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সেঁজুতি তার চিঠিতে লিখেছে।
দাদুকে হারিয়ে আমি ভালো নেই। তোমার (শেখ হাসিনা) মুখ আমার দাদুর মুখের মতো। বিশেষ করে তোমার নাক আমার দাদুর নাকের মতো। তাই আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তোমাকে টিভিতে দেখলে আমার দাদুর কথা মনে পড়ে।
চিঠিতে সেঁজুতি প্রধানমন্ত্রীকে তার বাসায় যাওয়ার দাওয়াত দিয়ে বলে, তুমি আমাদের বাসায় বেড়াতে এসো।
সেঁজুতির চিঠি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী স্নেহ, ভালোবাসা, যত্ন নিয়ে তার চিঠির উত্তর দেন। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘তোমার লেখা চিঠি পেয়েছি। আমার স্নেহ ও শুভেচ্ছা গ্রহণ কর। আশা করি তুমি বাবা-মা, বন্ধুদের নিয়ে খুব ভালো আছো। তোমার চিঠিটি আমি কয়েকবার পড়েছি। তোমার দাদুর জন্য দোয়া করেছি। তোমার দাদুকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন বেহেশত নসিব করুন। তুমি মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করবে এবং স্কুলে যাবে। বাবা-মার কথা শুনবে এবং বড় হয়ে দেশের সেবা করবে। তোমার জন্য আমার একটা ছবি পাঠালাম। অনেক অনেক দোয়া আর আদর রইল’।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের প্রমিজ চাইল্ড একাডেমির দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সেঁজুতির দুই বড় ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন।