মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে দুইদিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল। সরকারের পক্ষ থেকে দলটির কাছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং তৃতীয়টি প্রথাগত ও অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। রোববার সকালে তারা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবে।
এদিকে, নিরাপত্তা পরিষদের এই সফরে ঘিরে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে।
মিয়ানমার সেনাদের চালানো 'জাতিগত নিধনযজ্ঞের' মুখে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখতে সোমবার বিকালে কক্সবাজার পৌঁছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল। এই প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করছে।
সরাসরি কুয়েত থেকে আসা একটি চার্টার বিমানে বিকাল ৪টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছায় তারা। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব মোহাম্মাদ খোরশেদ আলম তাদের স্বাগত জানান।
নিরাপত্তা পরিষদের এই পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধিরা।
এছাড়া পরিষদের ১০ অস্থায়ী সদস্য- বলিভিয়া, গিনি, ইথিওপিয়া, কাজাখস্তান, কুয়েত, নেদারল্যান্ডস, পেরু, পোল্যান্ড, সুইডেনের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং আইভরি কোস্টের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধিসহ ২৬ জন রয়েছেন এ দলে। পেরুর স্থায়ী প্রতিনিধি বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই দলটিকে সরকারের নীতি এবং প্রত্যাবাসন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রথাগত ও অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে জানানো হয়েছে।
রোববার সকালে দলটি জিরো লাইনে অবস্থিত রোহিঙ্গাদের অবস্থা পরিদর্শনে যাবে। এরপর রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির কুতুপালং পরিদর্শন করবেন।
বিকেলে তারা ঢাকা ফিরে আসবে এবং পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে। ওইদিনই দুইদিনের সফরে মিয়ানমারের রাখাইন যাবে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলটি। সেখানে মিয়ানমার সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াও রাখাইনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হেলিকপ্টারে পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের সফরে কার্যত কোনো ফল আশা করছে না রোহিঙ্গারা।
তবে রোহিঙ্গাদের নিচ দেশে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে এ সফর বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।