রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আন্তরিকভাবে কাজ করবে জানিয়ে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান এ লক্ষ্যে একমত হয়েছে চীন ও রাশিয়া।
সোমবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে এ তথ্য জানান তারা।
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান সময়সাপেক্ষ ও কঠিন উল্লেখ করে এ সময় তারা আরো বলেন, তবে যথাসম্ভব দ্রুত এর সমাধান দেখতে চায়।
ওই সাক্ষাতে সময় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপানের কাছে বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূমিকার প্রত্যাশার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ও লাওসসহ মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরু করতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা গতকাল সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখে আসেন।
সোমবার সকালে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি গুস্তাবো মেজা কুয়াদ্রার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার যে চুক্তি করেছে সে অনুযায়ী মিয়ানমারের কাজ করা উচিত।
এ সময় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা ও সাহায্য সম্প্রসারণ করায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রশংসা করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান সময়সাপেক্ষ ও কঠিন উল্লেখ করে এ সময় তারা বলেন, তবে যথাসম্ভব দ্রুত এর সমাধান দেখতে চায় তারা।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সংকট সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবে জানিয়ে তারা আরো বলেন, এ লক্ষ্যে একমত হয়েছে চীন ও রাশিয়া।
গতকাল রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে—তাই মিয়ানমারকেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে এ মন্তব্য করেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি কারেন পিয়ার্স।
এর আগে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে রোববার সকালে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং ক্যাম্প ঘুরে দেখেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা।
পরে সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে এসেছে তাই মিয়ানমারকেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হবে।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ জনসহ ৪০ সদস্যের এ প্রতিনিধি দল শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কুয়েত থেকে সরাসরি কক্সবাজার পৌঁছান।
তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন পেরুর গুস্তাভো মেজা-চুয়াদ্রা, যিনি চলতি (এপ্রিল) মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
গতবছর অগাস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গারা।
এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।