মহান মে দিবস আজ (মঙ্গলবার)— সারা বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষ দিনটি পালন করছে যথাযোগ্য মর্যাদায়। তবে মে দিবস উদযাপনের ১৩২ বছর পার হওয়ার পরও, শ্রমিকরা এখনো লড়াই করছেন আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে।
দৈনিক ১২/১৩ ঘন্টা কাজের আগে, ছুটি মেলেনা শ্রমিকদের। তাদের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি কাঠামোও, দারিদ্র্য সীমার নিচে। মৌলিক চাহিদা মেটানোর মত ন্যূনতম মজুরির দাবিতেও চলছে তাদের আন্দোলন-সংগ্রাম।
ভোরের আলো ফুটতেই, কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশে দল বেধে পদযাত্রা। মাথায় পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষনের বোঝা, আর কর্মক্ষেত্রের সীমাহীন চাপ। কাজের শুরু আছে, নির্ধারিত আট ঘন্টা, তারপর ওভারটাইম, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। কাজ শেষ না করে ছুটি নেই।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন ধারনের জন্য, শ্রমিকদের কমপক্ষে ১৬ হাজার টাকা মজুরি প্রয়োজন। আর মালিকপক্ষ বলছেন, ন্যুনতম মজুরি কত হওয়া উচিত, তা নির্ধারণ করবে সরকার গঠিত মজুরি বোর্ড।
এত পরিশ্রমের পরেও মিলছেনা আর্থিক সচ্ছলতা। সরকারি হিসেবে চার সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক আয়, ৮ হাজার ৮'শ টাকার নিচে হলে তাদের বাস দারিদ্র্য সীমার নিচে। অথচ, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৮'শ টাকার অনেক নিচে। দেশের সার্বিক চিত্র বিবেচনায় নিয়ে, ন্যুনতম মজুরি তাই ১৬ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক নেতাদের।
দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি এবং কর্মসংস্থানের খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরিও, দারিদ্র্য সীমার নিচে- ৫ হাজার ৩'শ টাকা। জীবন যাত্রার ব্যয়, মুল্যস্ফীতি, মালিকদের সক্ষমতা ও শ্রমিকদের চাহিদা-- এই চারটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে, নতুন মজুরি কাঠামো করা হচ্ছে বলে জানালেন বিজিএমইএ সভাপতি।
শ্রমিকদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত মে দিবস। ১৩২ বছর পর, তা কি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা- এমন প্রশ্ন অনেকের।