এবারের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার সর্বনিম্ন হলেও এ নিয়ে হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামীতে এটা আরও বৃদ্ধি পাবে, সেটা আমি আশা করি।
অভিভাবকের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্তান অকৃতকার্য হলে বকাঝকা দিয়ে লাভ নেই— তারা যেন ভবিষ্যতে ভালো করতে পারে সেজন্য অনুপ্রাণিত করতে হবে।
এ সময় তিনি বলেন, ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত দেশ আমরা তখনই গড়তে পারব যখন দেশের শতভাগ মানুষ শিক্ষিত হবে—শিক্ষা এমন একটা জিনিস যেটা কখনও কেউ কেড়ে নিতে পারে না।
রোববার গণভবনে ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি ছাত্রছাত্রীদের সবাইকে লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান এবং লেখাপড়ার যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যা যা করা দরকার তার সবই সরকার করছে বলে জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম সুশিক্ষিত হবে, দেশের কর্ণধার হবে সেটাই কামনা— তারা যেন উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে, সেটাই আমরা চাই।
গতবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যেখানে ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, এবার তা কমে এসেছে ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশে। পাসের এই হার গত ৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।
উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন আর যারা পাস করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হয়ে পড়ালেখায় মনযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এবার যেহেতু পরীক্ষারীর সংখ্যাও বেশি, সংখ্যার হিসাবে পাসের হার কিছুটা কম মনে হলেও সেটা খুব হতাশাজনক না, কারণ ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ পাস করা, এটাও কিন্তু কম কথা না।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, দশ শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৪ জন; আগের বছর ছিল ১৭ লাখ ৮২ হাজার, ৯৬২ জন।
এ বছর পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন; গতবার পাস করেছিল ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ জন।
ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল ও বান্দরবান জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে মত বিনিময় করেন।