প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমস্যা থাকতে পারে তবে তা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই সমাধানে বিশ্বাসী বাংলাদেশ— বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার ভারতের শান্তি নিকেতনে 'বাংলাদেশ ভবনের' উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সদ্ভাব থাকতে হবে।
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা স্মরণ করেন। তুলে ধরেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে স্থল সীমানা চুক্তি, ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়টি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিতার অসর্ম্পূণ কাজ সম্পূর্ণ করাই তার রাজনীতির লক্ষ্য। জানান, মানবতার জন্যই নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের যে পরিকল্পনা বাংলাদেশ নিয়েছে তাতে পূর্ণ সহোযোগিতা থাকবে ভারতের। ভারত বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেভাবে এগুচ্ছে তা অন্য দেশগুলোর জন্য একটি নজীর।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শান্তি নিকেতনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শান্তি নিকেতনে আট বিঘা জায়গা জুড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এ ভবনটি নির্মাণ করা হয়।
এর আগে শান্তি নিকেতনের আম্রকুঞ্জে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম সমাবর্তনে 'গেস্ট অব অনার' হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে আচার্যের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, কবিগুরু যতোটাই ভারতের ততটাই বাংলাদেশের, সব যুগেই তিনি প্রাসঙ্গিক।
এদিকে, দু'দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যান তিনি।
এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনের কয়েক মাস আগে কলকাতায় এ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আজ তার বৈঠক হবে। ফলে তিস্তার পানি পণ্টনসহ দুই দেশের অমীমাংসিত অন্য বিষয়গুলোও বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় স্থান পাচ্ছে।
সাক্ষাৎ হবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেও। গত বছরের এপ্রিল মাসে দিল্লি সফর করেন প্রধানমন্ত্রী।