মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না— অভিযানে নিরীহ কোনো ব্যক্তি নিহত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার নিজ বাসভবন গণভবনে সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিন বলেন, কে গডফাদার আর কে ডন সেটা বিচার করছি না বরং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদেরই বিচার হচ্ছে। অভিযান হঠাৎ করে শুরু হয়নি— দীর্ঘদিন গোয়েন্দারা কাজ করেছে এবং নজর রাখার পর কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদক সমাজের ব্যাধি- মাদক নির্মূলের দাবি উঠেছিল। এখন যখন এটা নির্মূলে অভিযান চলছে- তখন এটা নিয়ে কথা হচ্ছে। আপনারা কি চান অভিযানটা বন্ধ করে দিই!
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এ পর্যন্ত যতোগুলো ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে একটা অন্তত দেখান অন্যায়ভাবে ঘটেছে। মাদকবিরোধী অভিযান যেটা ঘটছে সারাদেশের মানুষ তাতে স্বস্তি পাচ্ছে। এটা করতে দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, কোনো পুরস্কারের প্রতি প্রবৃত্তি নেই—দেশের মানুষ যেন দু'বেলা দু'মুঠো খেতে পারে। আর কোনো পুরস্কারের জন্য লবিস্ট নিয়োগের আর্থিক সামর্থ্যও নেই আমার বরং টাকা থাকলে আমার গরিবের মাঝে বিলিয়ে দিতে চাই।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুই দিনের সরকারি সফরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে সম্মানিত অতিথি হিসেবে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দেন তিনি।
বিশ্বভারতীতে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মিত ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন তারা। শনিবার পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি লিট (ডক্টর অফ লিটারেচার) ডিগ্রি গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।
সফরে শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এই সফরে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রণাথ ঠাকুরে স্মৃতিবিজোড়িত ‘জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ি’ এবং কলকাতায় ঐতিহাসিক ‘নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু’ জাদুঘর পরিদর্শন করেন।