বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরতে পারলেও সেখানকার নাগরিকত্ব কিংবা দেশজুড়ে অবাধ চলাচলের সুযোগ পাবে কি-না, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা ছাড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করেছে জাতিসংঘ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।
গত মে মাসের শেষ দিকে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির রূপরেখায় দুই পক্ষই বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে এতে রোহিঙ্গাদের জাতিগত স্বীকৃতি অস্বীকার করা হয়েছে—মেলেনি নাগরিকত্বের দাবিও।
জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত এই চুক্তির অনুলিপি হাতে পেয়েছে রয়টার্স।
অবশ্য জাতিসংঘ এই চুক্তির ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছে, দীর্ঘ ছয় মাস চুক্তি নিয়ে আলোচনার পরেও জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়নমারের কাছ থেকে তেমন কোন ছাড় আদায় করতে।
এদিকে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পরিস্থিতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে ঢাকা এসেছেন বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপ প্রেসিডেন্ট ড. জিম ইয়াং কিম। বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। আর আজ দিবাগত রাত পৌনে ২টায় ঢাকা আসবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
কাল-রোববার সকালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন ড. জিম। পরে দুইজন একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা নিয়ে একটি অনুষ্ঠানেও যোগদান শেষে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব। পরে রাতে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে দেয়া নৈশ্যভোজে অংশ নেবেন।
পরদিন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করতে কক্সবাজার যাবেন গুতেরেস ও ড. জিম। সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরে তারা সংবাদ সম্মেলন করবেন।
এছাড়া, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও তাদের জন্য আর্থিক বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করা হবে।