আবারো ফিরে এসেছে জঙ্গি-সন্ত্রাসে বিপর্যস্ত ভয়ঙ্কর সেই দিন—রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস জঙ্গি হামলার ২ বছর পার হচ্ছে আজ -রোববার।
গত ২০১৬ সালের আজকের দিনে এই বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ জন বিদেশি, দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ ধরনের বর্বরোচিত হামলার এ ঘটনা ছিল দেশে প্রথম। সেই বিভীষিকার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চালায় নানা জঙ্গিবিরোধী অভিযান। পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এরই মধ্যে আনা হয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন।
হলি আর্টিজান বেকারি: দুই বছর আগে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সাক্ষী রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের ৭৮ নম্বর সড়কের লেকের ধারের সেই বাড়িটি। ২০১৬ সালের ১ জুলাই, রাত ৮টার দিকে হঠাৎই সবসময় কঠোর নিরাপত্তা নজরদারিতে থাকা রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকার এই রেস্টুরেন্টটিতে "আল্লাহু আকবর" বলে ঢুকে পড়ে ৫ যুবক। পুরো রেস্তরাঁ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সবাইকে জিম্মি করে তারা।
খবর পেয়ে সেখানে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিস্ফোরণ ও গোলাগুলিতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন নিহত হন এবং ৫০ জনেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আহত হন।
ভেতরে জঙ্গিরা ২০ জিম্মিকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। যাদের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি, একজন ভারতীয়, ৯ ইতালীয় এবং ৭ জাপানি ছিলেন।
পরদিন ভোরের দিকে সেনাবাহিনীর এয়ার কমান্ডোর নেতৃত্বে কমান্ডো অভিযান শুরু হয়। আর জঙ্গিদের প্রায় ১২ ঘণ্টার জিম্মি সংকট শেষ হয় সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযান "অপারেশন থান্ডারবোল্ট"র মাধ্যমে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয় ৫ জঙ্গি নিরবাস ইসলাম, মীর সামিহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, খায়রুল ইসলাম পায়েল এবং শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওরফে বিকাশ।
পরে বিধ্বস্ত হোটেল থেকে হাসনাত করিম ও তাহমিদ খানসহ ৩২ জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এমন জঙ্গি হামলা বাংলাদেশে এটাই প্রথম। নির্মম এ হত্যাযজ্ঞের পর থেকেই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।