দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্র বিক্ষোভ যৌক্তিক বলে মনে করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বুধবার রাজধানীর সেতু ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী এবার নিজেই উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সড়ক পরিবহন আইন পাস হলে লাগাম টেনে ধরার জন্য আরও কঠিন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে।
কাদের বলেন, কালকে তো আসলে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা রাস্তায় বেরিয়েছিল—তাদের প্রচণ্ড ইমোশন কাজ করছিল তার বাস্তব কারণও ছিল। দুইজন সম্ভাবনাময় ছাত্র রাস্তায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছে।
সেটার প্রতিবাদে এমন বিক্ষোভ অনৈতিক বলে আমি মনে করি না কারণ এ ধরণের বিক্ষোভ হতেই পারে বলেন কাদের।
তিনি আরো বলেন, সড়ক পরিবহন আইনটি আগামী সপ্তাহেই মন্ত্রিসভায় তোলা হচ্ছে—অনুমোদনের পর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে তা পাস হবে।
শিক্ষার্থীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক পরিবহনে বিশৃঙ্খলা ও সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, মন্ত্রিপরিষদের আগামী সভায় এ আইনটি তোলা হবে— পাস হলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে সড়ক ও পরিবহন খাতে।
সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা যেখানে সরকারের নৌ পরিবহনমন্ত্রী সেখানে আইনটি পাস হলেও কি কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া যাবে এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আইন কার্যকর করার দায়িত্ব সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের।
গত রোববার বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্র বিক্ষোভকে যৌক্তিক বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন হচ্ছে— শিক্ষার্থীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
কারো কলকাঠিতে নয়— হামলার আশঙ্কায় রাজধানীতে গণপরিবহন কম বলেও জানান সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিক্ষোভে গাড়ি পুড়িয়ে ফেলবে বা ভাঙচুর করবে- এই ভীতি থেকে গাড়ির মালিকরা গাড়ি বের করেনি। গাড়ির মালিকদের এই ভীতিটা থাকতেই পারে। এই ভীতিটা কেটে যাবে— আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, এখন নৈরাজ্য হয়নি, তবে বিশৃঙ্খলা টার্মিনালে আছে, সড়কেও আছে। এটা তো আমি অস্বীকার করি না। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি আইন খুব জরুরি ছিল। সে আইনটা আশা করি পাস হয়ে যাবে। তারপর এখানে আমরা লাগাম টেনে ধরার জন্য কিছু বাস্তব ও কঠিন পদক্ষেপ নিতে পারব।
প্রসঙ্গত, গত রোববার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ওরফে সজীব এবং একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম ওরফে মিম মারা যায়। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।