বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান নিয়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গাড়ির চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির রুট পারমিট পরীক্ষা করছে।
বুধবার সকাল থেকে ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর, উত্তরা হাউস বিল্ডিং মোড় ও টঙ্গি, যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এবং বিমানবন্দর গোলচত্বরের সামনে শিক্ষার্থীরা লাইসেন্সবিহীন গাড়ি যাতে রাস্তায় চলতে না পারে সে লক্ষ্যে এ কাজ করছে।
পুলিশের দায়িত্ব শিক্ষার্থী কেনো নেবে- এ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীরা বলেন, সকাল থেকে আন্দোলন করছি। তবে পুলিশ রাস্তায় নেই। এজন্য আমরা পুলিশের কাজটি করে দিচ্ছি। লাইসেন্স দেখা হচ্ছে সব গাড়ির। এখানে পুলিশের গাড়িও দেখা হচ্ছে। তারা লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হলে গাড়ি চলতে দেবো না।
এদিকে, রাজধানীর অন্যান্য জায়গার মতো শনির আখড়ায়ও আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন বাস আটকে চালকদের লাইসেন্স দেখছিল।
যেসব চালকের লাইসেন্স নেই তাদের গাড়ি সাইড করে রাখতে বলছিল। এসময় রাস্তা ফাঁকা পেয়ে উল্টোপথ দিয়ে একটি পিকআপ দ্রুত গতিতে চলে আসে। শিক্ষার্থীরা সেটিকে আটকানোর চেষ্টা করে। পিকআপ চালক গাড়ি না থামিয়ে গতি আরও দেয় এবং এক শিক্ষার্থীকে চাপা দিয়ে চলে যায়।
পুলিশের যাত্রাবাড়ী জোনের এসি ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, যাত্রাবাড়ী শনির আখরায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে রাস্তা ফাঁকা পেয়ে উল্টোপথে একটি পিকআপ দ্রুত গতিতে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এসময় এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে পিকআপটি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। ওই শিক্ষার্থীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কিন্তু কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এটা এখনও জানা যায়নি।
এছাড়াও রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে পুলিশের পিকআপ ভ্যান উল্টে দিলো আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিকেল মিরপুরে আন্দোলনরত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ ঘটনা ঘটায়।
মিরপুর-১৪ নম্বর থেকে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ১০ নম্বরের দিকে আসলে আন্দোলকারীরা তাদের বাধা দেয়। এসময় ভ্যান রেখে পুলিশ সদস্যরা চলে গেছে শিক্ষার্থীরা ভ্যানটি ভাঙচুর ও উল্টে দেয়।
পরে তারা মিরপুরের-১৩ নম্বরে অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রাসপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে তারা মিছিল দিয়ে বিআরটিএ কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে গেলে আনসার সদস্যরা গেটে বন্ধ করে দেন। পরে তারা বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
এদিকে, বুধবার সচিবালয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় বৈঠকে বসে নৌপরিবহন ও স্বরাষ্ট্র ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক ফেডারেশন।
একটি সড়ক দুর্ঘটনায় যে শাস্তি হওয়া উচিৎ তার সর্বোচ্চটাই থাকছে সড়ক পরিবহন আইনে— তরিৎ গতিতে বিচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং কোনো অপরাধী ফাকফোঁকর দিয়ে বের হতে পারবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
আর আইনমন্ত্রী আনিসুল হকম বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন মন্ত্রিসভায় আগামী সোমবার তোলা হবে।