শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি ঘোষণা উপেক্ষা করে স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম পরেই আজও- বৃহস্পতিবার রাস্তায় নেমেছে শিক্ষার্থীরা।
বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সকাল থেকেই রাজধানীর প্রায় ২০টি পয়েন্টে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়।
দুর্ঘটনায় দায়ী চালকদের ফাঁসি, ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালানো বন্ধসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগানে মুখর ছিল সড়কগুলো। দলে দলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আজও গাড়ি থামিয়ে রেজিস্ট্রেশন, চালকের লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করেছে তারা।
বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে পঞ্চম দিনেও রাস্তায় শিক্ষর্থীরা।
উত্তরা, মহাখালী, মগবাজার, ধানমণ্ডি, শাহবাগ, নিউর্মাকেট, সাইন্সল্যাবসহ রাজধানীর প্রায় ২০টি পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বিক্ষোভ মিছিল করে তারা।
এ সময় মোটরবাইক, প্রাইভেট কার, বাসসহ সব ধরনের গাড়ির কাগজপত্র-লাইসেন্স আছে কি-না তা চেক করে শিক্ষার্থীরা। কাগজপত্র-লাইসেন্স না থাকায় বেশ কিছু গাড়ীর চাবিও নিয়ে নেয় তারা।
নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তাসহ তারা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা তাদের।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন অভিভাবকরাও।
তারা বলেন, সরকারের এ বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা উচিত।
এদিকে, দুপুরের পর থেকে মালিবাগ, কাকরাইলসহ সিদ্ধেশ্বরী এলাকার বিভিন্ন সড়কে নেমে আসে শত শত শিক্ষার্থী। দাবি একটাই নিরাপদ সড়ক চাই।
বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় চালকদের বিচারসহ নয় দফা দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজও উত্তাল শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে তারা। এ সময় ফেনী থেকে ছয় শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।
বাস চাপায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারসহ নয় দফা দাবি আদায়ে বৃহস্পতিবার সকালেই গাজীপুরের টঙ্গী, চন্দ্রা, রাজেন্দ্রপুর ও চান্দনা চৌরাস্তায় অবস্থান নেয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মাহসড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন যানবাহন ও চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে। তবে অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে ফেনীতেও সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় সেখান থেকে ছয় ছাত্রকে আটক করে পুলিশ।
সকাল ১০টায় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল করে মজমপুর গেট এলাকায় জড়ো হয়। শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করে তাদের দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানায় তারা।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিরাপদ সড়কের দাবিতে নারায়ণগঞ্জেও আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড় ও চাষাঢ়ায় অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় শিক্ষার্থীরা উৎসব ও বন্ধন নামে দুটি বাস ভাঙচুর করে। পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণে করে।
ভৈরবের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের টোলপ্লাজায় অবস্থান নেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয় থাকে। ময়মননসিংহের টাউন হল চত্বরেও অবস্থান নিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।
এসময় সরকারি-বেসরকারি গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করে তারা। বরিশালালের চৌমাথা-সিঅ্যান্ডবি রোড এলাকাতেও অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। অবরোধ করে রাখে কুয়াকাটা-বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক।
গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র্যা ডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।