কোরবানির তাৎপর্য অনুধাবন করে সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
তিনি বলেন, কোরবানির শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বুধবার বঙ্গভবনে সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
কোরবানি মানুষকে ত্যাগের পাশাপাশি ধৈর্য শিক্ষা দেয় জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ব্যক্তি-সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ধৈর্যের গুরুত্ব অপরিসীম।
ধর্ম মানুষকে ন্যায়-নীতি ও কল্যাণের পথ দেখায় বলেও এ সময় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সকল অশুভ-অকল্যাণকে পরিহার করে মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
ঈদে সাম্য-মৈত্রীর বন্ধন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি সবার কল্যাণ কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বঙ্গভবনে রাজনীতিবিদ, বিচারক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের জনগণ এবং পেশাজীবীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
এর আগে সকাল ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার প্রথম জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন রাজনীতিবিদ এবং উর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও দেশের এই প্রধান ঈদ জামাতে সকাল ৮টায় নামাজ আদায় করেন।
এর আগে ঈদগাহে পৌঁছার পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা স্বাগত জানান। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ এহ্সানুল হক ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন।
ঈদের নামাজ শেষে দেশের শান্তি ও অগ্রগতি, জনগণের কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মোনাজাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টে শহীদ তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।
ঈদের নামাজ আদায়ের পর রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।