মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়নি শুধু কর্মী পাঠানোর পদ্ধতি পরিবর্তন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের সংগঠন আরবিএমের সঙ্গে ‘মিট দ্যা প্রেস’ তিনি এ কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, যে ১০ এজেন্সির বিরুদ্ধে কর্মী পাঠানো নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে মালয়েশিয়া সরকার ঠিক কী পদ্ধতিতে কর্মী নেবে বা শ্রমবাজার নিয়ে তাদের ভাবনা জানতে একটি চিঠিও সেখানকার মিশনের মাধ্যমে পাঠানো হবে।
নানা তর্ক বির্তকের পরে সাংবাদিকদের পরামর্শেই মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া সরকার জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে কি পরিকল্পনা বা উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে, সে বিষয় জানতে একটি চিঠি পাঠানোর কথা।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশি ১০ এজেন্সি সিন্ডিকেট তৈরি করে দ্বিগুন ব্যয়ে কর্মী পাঠাচ্ছে এবং ওই এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের যে ঘোষণা দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ দিয়েছেন— সে প্রসঙ্গেও ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের সমালোচনা করেন মন্ত্রী।
পরে পরিস্থিতি সামলে সচিব নমিতা হালদার বলেন, যদি মালয়েশিয়া ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশী কর্মী নেয়া বন্ধ করে তাহলে ওই ১০ সিন্ডিকেট যাদের মাধ্যমে এতদিন কর্মী পাঠানো হতো তাদেরকে শোকজ করা হবে এবং কর্মীদের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হবে।
এদিকে, সৌদি আরব থেকে নারী গৃহকর্মীদের দেশে ফেরার যে ঢল এসছে— সে প্রসঙ্গে মন্ত্রি বলেন, ভাষাগত ও খাবারের সমস্যার কারনেই তারা ফিরে আসছেন।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়া প্রচলিত নিয়মে বাংলাদেশ থেকে আর জনশক্তি নেবে না- সম্প্রতি মালয়েশিয়া সরকারের এমন সিদ্ধান্তের মুখে বিদেশমুখী কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়। এমনকি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়নি।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজার খুলে গেলেও গেল চারমাসে কর্মী নিয়োগের কোনো চাহিদা বাংলাদেশে আসেনি। সে প্রসঙ্গেও কোনো সদোত্তর মন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।