ভারসম্যহীন পরিবর্তনের পথে দেশের তৈরি পোশাক খাত— সিপিডির গবেষণা বলছে, গেল ৫ বছরে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনে বড় কারখানা এগিয়ে গেলেও পিছিয়ে পড়ছে ছোট ও মাঝারি কারখানা। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিপিডি।
গবেষণায় বলা হয়, কর্মপরিবেশের উন্নতি হলেও, উন্নতি নেই শ্রমিক অধিকারের প্রশ্নে। তুলনামূলকভাবে কমে আসছে নারী শ্রমিকের সংখ্যাও। বড় ব্যবধান রয়ে গেছে মুনাফা বণ্টনেও আরো অবস্থা উত্তরণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরিচালিত গবেষণার উপর ভিত্তি করে।
দেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়নে পথনকশা তৈরির তাগিদ দিয়েছেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী।
২০১৩ এর এই ধংসস্তুপ থেকেই পরিবর্তন শুরু হয় দেশের তৈরি পোশাক খাতের। গেল ৫ বছরে রপ্তানিমুখী এই শিল্পের প্রায় সব কারখানাই এসেছে সংস্কারের আওতায়।
এমন ২২৬টি কারখানা এবং সোয়া দুই হাজার শ্রমিকের উপর জরিপ চালিয়ে সিপিডি বলছে, এই সময়ে উন্নতির সূচকে কারখানাগুলো নম্বর পেয়েছে একশো তে ২১। তবে এ সময়ে সবচেয়ে বেশি উন্নতি হয়েছে, কাজের পদ্ধতিতে। বাড়েনি কাজের গতি ও পণ্যের মান।
শ্রমিক হিসেবে নারী পুরষের বৈষম্য হ্রাসের চিত্র কিছুটা ভাল। তবে অধিকারের প্রশ্নে নেই পাস নম্বর ১০০ তে ১৮।
সিপিডি বলছে, এখনো শ্রমিক সংগঠন করার অধিকার নেই প্রায় ৯৮ শতাংশ কারখানায়। মালিকদের মুনাফা অনুযায়ী, শ্রমিকদের মুজুরি, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও রয়ে গেছে বড় আকারের বৈষম্য।
মুনাফার ভাগাভাগির সূচকে বাংলাদেশ পেয়েছে ২১। সিপিডি বলছে, এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বিদেশি ক্রেতারা। মুনাফার প্রায় ৮০ শতাংশই যায় তাদের ঘরে।
এ সময় একটি ভারসম্যপূর্ণ শিল্পের জন্য আরো বিশদ গবেষণারও তাগিদও দেন আলোচোকরা।