রোহিঙ্গা সংকট চিরতরে সমাধানের লক্ষে বৈষম্যমূলক আইনের বিলোপ, নীতিমালা তৈরি এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধসহ জাতিসংঘে তিন দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকালে শরণার্থী সংকটের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম দফা সুপারিশে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের বৈষম্যমূলক আইন, নীতি এবং বিলোপ চেয়েছেন। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধসহ জোরপূর্বক তাদের বাস্তুচ্যুত করার কারণ খুঁজে বের করার কথা জানান।
দ্বিতীয় সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিক সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় দেশটিতে একটি সেইফ জোন প্রতিষ্ঠা করার ওপর জোর দেন।
তৃতীয়ত, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশের আলোকে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচাতে হবে বলে সুপারিশ করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, শরণার্থীদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দায়িত্ব বিশ্বের সবার। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিলেও তাদের চাহিদা মেটাতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার কথাও প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেন।
চলতি বছরে রোহিঙ্গাদের সহিয়তায় জাতিসংঘের যৌথ সারাদান পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় ৯৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাঝে মাত্র ৩৩ শতাংশ তহবিলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে অনুষ্ঠানে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া জাতিসংঘ সদরদপ্তরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর উদ্যোগে ‘ইনভেস্টমেন্ট ফর অ্যাডুকেশন অব উইমেন অ্যান্ড গার্ল’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।