কোনো দেশের একার চেষ্টায় সমুদ্রপথের অপরাধ দমন করা সম্ভব নয় – এ মন্তব্য করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সমুদ্র-সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, সমূদ্র উপকূলের নিরাপত্তা রাখতে সদা তৎপর থাকতে হবে কোস্টগার্ডকে।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ১৪তম হেডস অব এশিয়ান কোস্টগার্ড এজেন্সি প্রধানদের উচ্চপর্যায়ের এক সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, উপকূল এবং সমুদ্র অঞ্চলের বিশাল এলাকা জুড়ে সংগঠিত অপরাধ হয়ে থাকে—তাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতা ছাড়া কোনো দেশের পক্ষে এককভাবে নিরাপদ সমুদ্রসীমা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড অপেক্ষাকৃত নতুন বাহিনী হওয়া সত্ত্বেও তারা দক্ষতার দেশের সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং মানুষের আস্থা অর্জনের সক্ষমতা দেখিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে—আগামী ৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে জানান শেখ হাসিনা।
এশিয়ার দেশগুলোর উপকূলরক্ষী বাহিনীর প্রধানদের চতুর্দশ বৈঠকে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমাকে নিরাপদ করতে তার সরকার ‘বদ্ধপরিকর’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচল অপরিহার্য। তবে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথেই হয়।
সমুদ্র পথে মাদকদ্রব্য পাচার, অবৈধ অস্ত্র পাচার, মানব পাচার, অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য আহরণ, জলদুস্যতা, সশস্ত্র ডাকাতি এবং আরও বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ প্রায়শই সংঘটিত হয়ে থাকে। এসব অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে শুধু দেশীয় নয়, পার্শ্ববর্তী দেশগুলির অপরাধীরা জড়িত বলে উল্লখে করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধীরা অনেক সময় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকে কাজেই কোনো একক দেশের পক্ষে এদের দমন করা সম্ভব নয় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলেই এ সকল কর্মকাণ্ড দমন করা সম্ভব এবং এটা অপরিহার্য।
এইচএসিজিএএম-এর মত একটি সংগঠনই পারে আমাদের সকলের অভিজ্ঞতা ও তথ্য-উপাত্ত কাজে লাগিয়ে দলগতভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে এসব সামুদ্রিক অপ-তৎপরতা রোধ করে একটি নিরাপদ সমুদ্রসীমা উপহার দিতে পারে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড অপেক্ষাকৃত নতুন বাহিনী হওয়ার পরও দেশের মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষমতা দেখিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,উপকূলবর্তী দেশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরে এদেশের মানুষের নানাবিধ স্বার্থ জড়িত। বঙ্গোপসাগরের অপর দুই অংশীদার ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমানা নির্ধারিত না থাকায় বিগত চার দশকে আমরা সমুদ্রতলদেশের সম্পদ আহরণে বাধাগ্রস্ত হয়েছি। জেলে সম্প্র্রদায় মৎস্য আহরণে বাধার সম্মুখীন হয়েছে। আমাদের মৎস্যসম্পদ অন্য দেশের জেলেরা অবাধে শিকার করেছে। কিন্তু আমরা প্রতিকার করতে পারিনি। খনিজ ও অন্যান্য সম্পদে আমাদের অধিকার ছিল না।
২০১২ ও ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিষয়ক ট্রাইবুনালে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি হয় যার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় বলে জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন,আমরা দুটি বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেও এটা করতে সক্ষম হয়েছি। এ বিশাল জলরাশির তলদেশে খনিজ সম্পদের প্রাচুর্যতা রয়েছে। এ সম্পদ আমরা উত্তোলন করতে সক্ষম হলে আগামী কয়েক প্রজন্ম লাভবান হবে।
সম্মেলনের সফলতা কামনা করে তিনি বলেন, কোস্ট গার্ডের সদস্যগণ সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দুরূহ কাজে নিয়োজিত থাকেন। এ সভার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলি তাদের সমুদ্রসীমা আরও নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।
ঢাকার হোটেল র্যা ডিসন ওয়াটার গার্ডেনে বুধবার সকালে ‘হেড অব এশিয়ান কোস্ট গার্ড এজেন্সিস মিটিং’ বা এইচএসিজিএএম এর এই বৈঠকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরীসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মেরিটাইম এজেন্সির প্রধানরা অংশ নেন।