রাজধানীর নয়াপল্টনে গতকাল বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়া যুবক শনাক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগকারীদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা সবাই বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, আমরা মামলা নিয়েছি- গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতোমধ্যেই তৎপরতা শুরু করেছে।
কমিশনার বলেন, নির্বাচনের আগে পুলিশকে উসকানি দিতে আর অসৎ উদ্দেশে আমাদের গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। কারা আগুন দিয়েছেন, তাদের দেখা গেছে। এছাড়া মিডিয়ার ফুটেছে স্পষ্টই দেখে যায় তারা কীভাবে পুলিশের সদস্যদের লাঠিপেটা ও ইটপাটকেল মেরেছেন।
তিনি আরো বলেন, এ হামলা পূর্ব পরিকল্পিত নির্বাচনের আগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেই এ অতর্কিত হামলা।
এর আগে মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার মিশুমিশু বিশ্বাস দাবি করেন, পুলিশের গাড়িতে যে যুবক আগুন দিয়েছে তার নাম শাহজালাল খন্দকার। তিনি পল্টন থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
একই ঘটনার সময় পুলিশের গাড়ির ওপর যে যুবককে লাফাতে দেখা গেছে তাকেও শনাক্ত করা হয়েছে সেও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এ সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আসামি করে পুলিশ তিনটি মামলা করেছে। গতকাল বুধবার পল্টন থানায় এ মামলাগুলো করা হয়।
পল্টন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, রাস্তা অবরোধ, পুলিশকে মারধর ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের ওপর হামলা, গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংশ্নিষ্ট ধারায় এসব মামলায় কমপক্ষে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, গতকাল দুপুরে হাজারখানেক নেতা-কর্মীর মিছিল পুরো রাস্তা আটকে দেয়। মিছিলটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে একটি লেন চালু করার চেষ্টায় পুলিশ লাঠিপেটা করলে সংঘাতের সূত্রপাত হয়।