মেয়েদের সব ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে— তারা যেন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে তাহলে পরিবারেও তাদের গুরুত্ব বাড়বে, মেয়েদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে এভাবেই নিজের অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বেগম রোকেয়া দিবস’ উপলক্ষে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর এদিন সারাদেশে সরকারিভাবে রোকেয়া দিবস পালন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বেগম রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিজেদের সম্পৃক্ত করার জন্য দেশের নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষার পাশাপাশি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হলে নারীর অধিকার আদায় হবে না— নারী জাগরণের পথিকৃত বেগম রোকেয়ার এই যুক্তিকে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ জন্য নারীর একার চেষ্টা যথেষ্ট নয়।
নিজেকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে তুলতে নারীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
একই সঙ্গে নারীরা যাতে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিকে সর্তক থাকতে অভিভাবকদের প্রতি তার আহ্বান তিনি।
বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় রোকেয়া পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে এবার সমাজের বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৫ নারীকে সম্মাননা জানানো হয়।
বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া শিক্ষার আলো নিয়ে তৎকালীন নারীদের মুক্তি ও আত্মবিকাশের পথ দেখিয়েছিলেন। সেই মহিয়সীর পথ ধরে যুগে যুগে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। এখন বাংলাদেশের শুধু রাষ্ট্র ক্ষমতায়ই নয়, সরকারি বেসরকারি পর্যায়েও উচ্চাসনে নারীদের অবস্থান রয়েছে। সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যাওয়া সেসব নারীদের সম্মান জানাতেই সরকার ১৯৯৫ সাল থেকে দেয়া শুরু করে "রোকেয়া পদক। সে ধারাবাহিকতায় এবারও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য দেশের পাঁচ নারীকে সম্মান জানালো সরকার। ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়ার ১৩৮তম জন্ম এবং ৮৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ পদক দেয়া হয়।
নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার জন্য রোকেয়া পদক পেয়েছেন রাজশাহীর জিনাতুন নেসা তালুকদার। নারী শিক্ষায় বিশেষ অবদানে পদক পেয়েছেন প্রফেসর জোহরা আনিস। শিল্প সংস্কৃতির মাধ্যমে সমাজকে উন্নয়নে কাজ করায় পদক পেয়েছেন নেত্রকোনার শীলা রায়। নারী শিক্ষা , সাহিত্য সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণের স্বীকৃতি স্বরূপ মহান মুক্তিযুদ্ধে দুই সন্তান হারানো মা রমা চৌধুরীকে মরনোত্তর দেয়া হয় এ সম্মাননা। সাহিত্য সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে রোকেয়া বেগমকে মরণোত্তর পদক দেয়া হয়।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তাদের হাতে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় বেগম রোকেয়ার চিন্তা, চেতনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন তিনিই বাংলার নারীদের পথপ্রদর্শক।
একটি সুষ্ঠু ও শিক্ষিত সমাজ নির্মাণে নারীর ভূমিক অতুলনীয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো কন্যা সন্তান যেন সন্ত্রাস জঙ্গিবাদে না জড়ায় সেদিকে নজর রাখতে হবে।
পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।