মহান বিজয় দিবস পালন করছে গোটা বাঙালি জাতি। এ উপলক্ষে দেশের রাজধানী সেজেছে অন্যন্য সাজে। মিছিল, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উৎসব মুখর পরিবেশে বিভিন্ন সংগঠন দিনব্যাপী বিজয় দিবস পালন করছে।
সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। তাদের দাবি, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে যুদ্ধাপরাধীমুক্ত করা হবে।
পৌষের সকালে ছড়িয়ে পড়েছে অনন্তদিনের সোনালী আলো। ১৬ ডিসেম্বরের এমন সকালে এই সোনা রোদ মেখেই নানা আয়োজনে বাঙালি স্মরণ করছে জাতির সূর্যসন্তানদের শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি এই দেশ।
রাজধানীতে বিজয় উৎসব কেন্দ্র বলা চলে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারকে। এখান থেকেই শুরু বিজয় মিছিল, নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব আয়োজনে মুখরিত হয়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দিনের শুরুতেই সব শ্রেণী পেশার মানুষ জড়ো হন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। লাল সবুজের পতাকায় ছেয়ে গেছে পুরো চত্বর।
রংবেরংয়ের ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বের করে বিজয় শোভাযাত্রা।
বিজয় দিবস উদযাপনে ছিল আরো অনেক সংগঠন। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান সাংবাদিক ফোরামের সহযোগীতায় দশমবারের মতো সার্চ স্কেটিং ক্লাব আয়োজন করে ভিন্নধর্মী এক শোভাযাত্রার।
এর আগে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
এ সময় তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের এই চেতনা তরুণদের মাঝে আরো ছড়িয়ে দিতে হবে।
বিজয় দিবসের সকালে শহীদ মিনার ছিল উৎসবপূর্ণ। ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনে পালন করা হয় বিজয় উৎসব। কেউ কেউ পালন করেন সাইকেল চালিয়ে শোভাযাত্রা।
আবার কেউ কেউ নেচে গেয়ে মাতেন বিজয়োৎসবে।
আয়োজকরা জানান, তরুণদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাস ছড়িয়ে দিতেই এই আয়োজন।
বিজয়ের এমন বাধভাঙা আনন্দ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই যেন প্রতিবছর ফিরে আসে মহান এই দিবস।
এদিকে, বিজয় দিবসে সারাদেশের মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন শহীদদের। দিবসের প্রথম প্রহরে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ও শহীদদের স্মৃতিবিজরিত স্থানগুলোতে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের জনতা। এছাড়া সারাদেশে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি।
সকালে দিনাজপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম। পরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা জানানো হয়। নড়াইলে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে সূচনা হয় বিজয় দিবসের কর্মসূচির।
জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদের স্মৃতিস্তম্ভ, গণ কবর, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শেরপুরে সদর থানা প্রাঙ্গনে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
রোববার ভোর সাড়ে ৬টায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অপর্ন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক।
পরে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এদিকে, মেহেরপুরে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ দুই জন আহত হন। সারাদেশে পালিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস।