মহান বিজয় দিবস আজ। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের এক অনন্য গৌরবের দিন। লাখো শহীদের রক্তের সিঁড়ি পেরিয়ে এদিন বাঙালি অর্জন করেছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।
কালপ্রবাহে কেটে গেছে ৪৭ বছর। প্রতিটি বিজয় দিবসই উদ্দীপ্ত করে বাঙালির জাতীয় চেতনাকে, নবায়ন ঘটায় অনন্ত দেশপ্রেমের। আর সেই দেশপ্রেম যেন অধিকার হয়ে টিকে থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে- এমন প্রত্যাশা মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা এদেশের মানুষের জন্য এনে দিয়েছিলেন স্বাধীনতা।
শান্তিপ্রিয় ও নিরীহ জনতার এই জনপদ কখনো মোঘল, কখনো পাঠান, আবার কখনো ছিল ব্রিটিশ শাসনের অধীনে। ১৯৪৭ এ ব্রিটিশের কবল থেকে মুক্ত হয়েও ধর্মভিত্তিক পাকিস্তানের শাসক শ্রেণীর শোষণ নিপীড়নের শিকার হয় এ জাতি। শুরু হয় দীর্ঘ সংগ্রাম।
প্রথমে ভাষার দাবিতে, তারপর স্বাধিকারের লড়াই, ধীরে ধীরে স্বাধীনতার আন্দোলন ও সবশেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে চূড়ান্ত মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্ত ঢেলে দেয় বীর বাঙালি।
দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ শেষে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর আসে সেই মাহেন্দ্র ক্ষণ।
বাঙালির সাহসিকতার সামনে নত হয়ে রাজধানীর রেসকোর্স ময়দানে উৎফুল্ল জনতার সামনে আত্মসমপর্ণের দলিলে সই করেন পাকিস্তান বাহিনীর প্রধান জেনারেল নিয়াজী। রচিত হয় এক নতুন ইতিহাস। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলার আকাশে উড়ে গৌরবের জাতীয় পতাকা।
নিপীড়িত জাতির শত বছরের মুক্তি সাধনার অন্তিম ফল স্বাধীনতার ইতিহাস কখনও বিকৃত না হয় এমনই চাওয়া তাদের, যারা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে এনে দিয়েছেন স্বাধীনতা।
স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে, উজ্জীবিত করতে হবে দেশ প্রেমে এমনটাই দেখে যেতে চান এই বীর প্রতীক কেএম সফিউল্লাহ।