দলীয় সরকারের অধীনে আদৌ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ।
শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের আচরণে সুষ্ঠু নির্বাচনের আলামত দেখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন আনু মুহাম্মদ।
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, দেশের সংবিধান আমাকে যে অধিকার দেয় তা আদায় করে নেয়ার ব্যাপার রয়েছে। তার সঙ্গে আরেকটি জিনিস সেটা হচ্ছে, সাহস জোগানো। এখন দেশে ভয়ের পরিস্থিতি রয়েছে—এটা আমরা সবাই জানি। এই পরিস্থিতিতে আমরা জনগণ যে একা না, তা সবাইকে বোঝানোর প্রয়োজন আছে।
নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে যে ভয়ভীতি তৈরি হয়েছে তা নিরসনে সরকারকে ভূমিকা রাখতে হবে বলে জানান তিনি।
দেশে ভয়ের যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা থেকে উত্তরণে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে— একই সঙ্গে নির্বাচনে অবাধ সাংবাদিকতা নিশ্চিৎ করার দাবি জানান শহিদুল আলম।
সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীকে সীমিত আকারে রাখা হলে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে মনে করেন আইনজীবী শাহদীন মালিক।
আইনজীবী শাহদিন মালিক বলেন, আইনের শাসনের এবং নীতি নৈতিকতার প্রতি চরম অশ্রদ্ধা বোধ থেকেই বিরোধী প্রার্থীদের ওপর হামলার মতো কাজ হচ্ছে। আমরা আহ্বান জানাই এবং চাপ প্রয়োগ করি যাতে প্রশাসন তার দায়িত্ব পালন করে।
সরকারের এমপি -মন্ত্রীরা সরকারি প্রটোকল ব্যবহার করে নিবার্চনী প্রচারণা করে আইনের প্রতি বুড়ো আঙ্গুল এবং নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন বলে জানান শাহদীন মালিক ও সারা হোসেন।
ইতিহাসবিদ, অর্থনীতিবিদ, আইনজীবী, শিল্পী, শিক্ষকসহ নাগরিক সমাজের ২৯জন প্রতিনিধির পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নাগরিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন।
নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়:
দাবিগুলো হলো নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, স্বাধীনভাবে দেশি এবং বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের যথাযথ ভূমিকা পালন করার ব্যবস্থা, হামলা, মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা বন্ধ করা, নির্বাচনের সময় ধর্মীয়-সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সকল প্রকার যোগাযোগে বাধা দেয়ার বদলে উন্মুক্ত করা।