জাতীয় সংসদ অপেক্ষা করেছিল সৈয়দ আশরাফের জন্য বরাবরের মত এবারও শপথ নিয়ে কাজ করবেন দেশের জন্য। সৈয়দ আশরাফ সংসদে আসলেন শপথ নিতে নয় মানুষের শেষ শ্রদ্ধা-ভালোবাসা নিতে।
রোববার জাতীয় সংসদ প্রত্যক্ষ করলো একজন সৈয়দ আশরাফকে ঘিরে সব শ্রেণি পেশার মানুষের কত বিশাল ঢল। প্রিয় নেতার জানাজায় শরিক হলেন, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন, কামনা করলেন দেশপ্রেমিক এ প্রিয় মানুষটি যেন কখনো মুছে না যান বাঙালির মানসপট থেকে।
আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারি ছিলেন সৈয়দ আশরাফ। পিতা মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের মত তিনিও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। দলের সবাইকে ভালোবেসেছেন নির্মোহভাবে।
দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছেই অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন সৈয়দ আশরাফ। তাই বিরোধী আদর্শের রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও তিনি ছিলেন অনুসরণীয়।
সৈয়দ আশরাফ শারীরিকভাবে চলে গেলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। কিন্তু তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনে মানুষের মনে যে জায়গা করে নিয়েছেন তা থাকবে বহুকাল।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখো মানুষের ভিড় জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
বেলা-১২টার পর শোলাকিয়া ঈদাগহ ময়দানে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেওয়া দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয় শোলাকিয়া ময়দান।
এর আগে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সৈয়দ আশরাফের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তার মদরদেহ হেলিকপ্টরে করে শোলাকিয়ায় আনা হয়। দুপুর ২টায় ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে সৈয়দ আশরাফের তৃতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মৃত্যু পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে থাকা সৈয়দ আশরাফকে কিশোরগঞ্জের মানুষ তাদের জনপ্রতিনিধি করে সংসদে পাঠিয়েছে পাঁচ বার।