একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এর আগে বাংলাদেশে হয়নি—নির্বাচনে হেরে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েছে বিএনপি নেতারা এ মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
সোমবার তথ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মত বিনিময়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনে হেরে গিয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তারা এ সব কথাবার্তা বলছেন। তারা জানতেন নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হবে। এটা জেনেই তারা ৩০০ আসনে ৮০০ প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এটি তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। তারা নির্বাচনে প্রচারণায় নামেনি, তাদের লক্ষ্য ছিল অংশগ্রহণ করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
আমি হাছান মাহমুদ- মন্ত্রী ছাড়াও দলের প্রচার- প্রকাশনা সম্পাদক এবং মুখপাত্র তাই আমি কথা বলতে পারি।
তাদের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব, প্রতি আসনে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে –একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের লক্ষ্য ছিল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সে অপচেষ্টা হেরে গিয়েও চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্মরণকালের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে এবার—এ কথা উল্লখে করে মন্ত্রী বলেন, ব্যাপক উৎসবমূখর পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে, কোনো হতাহত বা সহিংসতা হয়নি।
আওয়ামী লীগ বহুমুখী প্রচারণা চালিয়েছে— তাই বিজয়ী হতে পেরেছে কিন্তু বিএনপি কোনো প্রচারণা চালায়নি, তাই ভরাডুবি হয়েছে জানান তথ্যমন্ত্রী।
প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব উদভাসিত করার চেয়ে কেন নির্বাচনে জিততে পারলো না তা খুঁজে বের করা—এ কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির শোচনীয় পরাজয় আওয়ামী লীগ আশা করেনি, তাদের নিজের কারণে এমন পরাজয় হয়েছে।
নাচতে না জানলে উঠোন বাকার ভূমিকা না রেখে কাজ করুন মিস্টার রিজভী –বলেন হাছান।
এ সময় নবম ওয়েজ বোর্ড দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষে মন্ত্রিসভা নতুন করে কমিটি গঠন করেছে জানান তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে প্রধান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দল হিসেবে আওয়ামী লীগ একই থাকলেও সরকার নতুন— তাই কমিটি পুনর্গঠন করা প্রয়োজন আর এ কারণেই পুনর্গঠন করা হয়েছে। ওয়েজবোর্ড দ্রুত বাস্তাবায়নের জন্য আমরা এটি করেছি, এবং তা প্রথম বৈঠকেই করেছি। কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে এটি বাস্তবায়নে কী কী করা যায়। আমাদের আন্তরিকতার অভাব নেই। আমাদের কিছুটা সময় দিন। আজকে সবেমাত্র কমিটি হলো। আইনগত বিধিবিধান মেনে ২৮ তারিখের মধ্যে কী প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব বলে জানান তিনি।