প্রতিটি শিল্পনগরীতে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ কথা বলেন তিনি।
ইটিপি ছাড়া শিল্পনগরী স্থাপনের কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হবে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
পরে সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা সাংবাদিকদের জানান।
দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা ও যথাযথভাবে কাজ শেষ করতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নজরদারি বাড়ালে কাজের গতি বাড়বে।
বর্তমান উন্নীত প্রবৃদ্ধি আরো বাড়াতে প্রকল্প বাছাই করা এবং প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
জানা গেছে, একনেকে ১০২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের আওতায় কোনো ইটিপি ছিল না। সেজন্য দ্রুতই ওই প্রকল্প এলাকায় ইটিপি স্থাপনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিল্পনগরী যেখানেই করা হোক, সেখানেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করার তাগিদ দেন তিনি।
এছাড়া অনুমোদনের পর থেকেই যেন প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় সে বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্প বাস্তবায়নে জলাভূমি ভরাট না করার নির্দেশনা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের মান ঠিক রেখে কাজের গতি বাড়াতে হবে। আরও দ্রুত কাজ করতে হবে। মানও বাড়াতে হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ভূমি অধিগ্রহণে সবসময় তিন গুণ দাম দেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, আমরা এক টাকার জমি তিন টাকা দিয়ে অধিগ্রহণ করবো। তাতে সবাই জমি দিতে উৎসাহিত হবে। ভালোবেসে জমি অধিগ্রহণ করতে চাই।
পরিরকল্পনামন্ত্রী বলেন, কাজে গতি বাড়লে প্রবৃদ্ধিও বাড়ানো সম্ভব। জনগণের অর্থ খরচে আমরা আরও সতর্ক হবো। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী খরচের বিপক্ষে নই আমি। কাজ করতে গিয়ে সময় অপচয়ও করা যাবে না।
নতুন সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেকের প্রথম বৈঠক রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাগণ চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।