নেপালের ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১ দুর্ঘটনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নেপাল। এদিকে, ইউএস বাংলার ফ্লাইট দুর্ঘটনায় নেপালের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সোমবার বিকালে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করেছে।
গতকাল-রোববার নেপালের পর্যটনমন্ত্রী রবিন্দ্র অধিকারীর কাছে ৪৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি জমা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বিমানটির পাইলটের মানসিক বিপর্যস্ততার দিকে নজর ফেরানো হয়েছে বলে মনে করছে নেপাল সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশন।
আর বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, ট্রাফিক কন্ট্রোল সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয়নি কাঠমাণ্ডু। দোষ ধামাচাপা দিতে নেপাল বিভ্রন্তি ছড়াচ্ছে বলে মনে করে ইউএস বাংলা।
এদিকে, ইউএস বাংলার ফ্লাইট দুর্ঘটনায় নেপালের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সোমবার বিকালে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সেখানে জানানো হয়, ট্রাফিক কন্ট্রোল সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয়নি ত্রিভূবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
নেপালের প্রতিবেদনে পাইলটকে একতরফাভাবে দায়ী করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার পেছনে নেপাল কন্ট্রোল টাওয়ারেরও দায় ছিল বলে তারা মনে করছে।
বিভ্রান্তি ছড়াতেই নেপাল এধরনের প্রতিবেদন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষও।
ঢাকা থেকে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে ২০১৮ সালের ১২ মার্চ দুপুরে কাঠমাণ্ডুতে নামার সময় দুর্ঘটনায় পড়ে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস-২১১। আরোহীদের মধ্যে ৫১ জনের মৃত্যু হয় যাদের ২৭ জনই ছিলেন বাংলাদেশি।
রোববার এ দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নেপাল সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশন। সেখানে বলা হয়েছে, এয়ারক্রাফটের ত্রুটি নয়, পাইলটের মানসিক বিপর্যস্ততায় বিধ্বস্ত হয়েছে ইউএস বাংলার বিমানটি।
দেশটির পর্যটনমন্ত্রী রবীন্দ্র অধিকারীর কাছে জমা পড়া ৪৩ পৃষ্ঠার ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কমিশন সুপারিশ করেছে, স্বাস্থ্য বা মানসিক অবসাদের কারণে কোনো পাইলটকে দায়িত্ব পালনে বিরত রাখার ইতিহাস থেকে থাকলে তার লাইসেন্স নবায়নের আগে অবশ্যই স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
তদন্ত কমিশন বলছে, ককপিটের ভয়েস রেকর্ডার পরীক্ষা করার পর তাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, ক্যাপ্টেন বড় ধরনের মানসিক চাপে ছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টার ওই ভয়েস রেকর্ডে কো-পাইলটের সঙ্গে কথোপকথোনে পাইলটের মানসিক অস্থিরতা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে তার অসতর্কতার বেশ কিছু নমুনা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
তদন্ত কমিশন বলছে, অসতর্কতার কারণে পাইলট বুঝতে পারেননি, তাদের ড্যাশ এইট-কিউ ফোর জিরো জিরো ফ্লাইটটি নির্ধারিত পথ থেকে কতোটা সরে গেছে। পাইলটরা ঠিকমতো রানওয়ে দেখতে পাচ্ছিলেন না।