সাগরের তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা পেয়েছে দেশের মূল ভুখণ্ড থেকে বিছিন্ন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপবাসী।
বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে সন্দ্বীপ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন কেবল (সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার) স্থাপন করে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া হয় সাগর ও নদী দিয়ে ঘেরা ওই উপজেলার মানুষের কাছে।
সন্দ্বীপে প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস। বারবার ভাঙনের কবলে পড়ে আয়তনে ছোট হয়ে এই দ্বীপ এতদিন একপ্রকার বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে ছিলো। বঙ্গোপসাগরের বুকে এ দ্বীপে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট যাওয়ায় দ্বীপবাসীর জন্য নতুন আশার আলোর সঞ্চার হলো।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সমুদ্রের তলদেশে সন্দ্বীপ চ্যানেলে ভূ-পৃষ্ঠ হতে ১০ থেকে ২০ ফুট গভীরতায় দুটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাবল নেটওয়ার্ক সমুদ্র তীরবর্তী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড অংশে ও সন্দ্বীপ চ্যানেলে যুক্ত করা হয়েছে। উপকূল থেকে ১৬ কিলোমিটারের দুটি ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে এ সংযোগ দেওয়া হয় সদ্বীপে।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এক অন্যরকম ও উন্নত বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরতে কাজ করা হচ্ছে— এরই অংশ হিসেবে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত বাংলাদেশে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে— এখন আর বিদ্যুতের জন্য গ্রাহকদের ঘুরতে হয় না বরং সংযোগ পৌঁছে যাচ্ছে গ্রাহকদের কাছে।
তিনি আরো বলেন, উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সুনির্ধারিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে আর ২০২০ সালের মধ্যে আরও বেশি উন্নয়ন ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এক উন্নত বাংলাদেশকে দৃশ্যমান করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ১২টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করেন। এছাড়া, ৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ৯টি গ্রিড উপকেন্দ্র এবং সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধন করেন তিনি।