বুড়িগঙ্গা তীরের অবৈধ স্থাপনা অপসারণে তৃতীয় দফায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ -বিআইডব্লিওটিএ।
কামরাঙ্গীচরের লোহারপুর ব্যাটারি ঘাট এলাকায় মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে ২০০ বেশি অবৈধ স্থাপনা ভাঙা হয়েছে। এই উচ্ছেদ অভিযানকে স্থানীয়রা স্বাগত জানালেও ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন অনেকে।
তবে বিআইডব্লিওটিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের চিহ্নিত করা এলাকাতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বেশ কিছু টিনের ঘর ও সেমিপাকা ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে। এর আগে, দুই দফায় ছয় দিনের অভিযানে বুড়িগঙ্গা তীরের এক হাজার ২০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
চারশ' বছরের ইতিহাস সমৃদ্ধ একসময়কার তিলোত্তমা নগরী ‘ঢাকা’ বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
দখল-দূষণের কবলে পড়ে সেই বুড়িগঙ্গার আজ বেহাল দশা।
বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে তাই নদীর দুই পাড়ের সকল অবৈধ স্থাপনা অপসারণে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআইডব্লিওটিএ।
উচ্ছেদ অভিযানের তৃতীয় দফায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে কামরাঙ্গীচরের লোহাপুল ব্যাটারিঘাট এলাকায় অবৈধ স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু করে সংস্থাটি।
বিকেল পর্যন্ত চলা এই অভিযানে দুই শতাধিকের বেশি পাকা ভবন, আধা পাকা স্থাপনা, টিনের টংঘরসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়।
বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল উদ্ধারে চলমান উচ্ছেদ অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।
তবে কারো কারো অভিযোগ, জমির বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও কোনো ক্ষতিপূরণ না দিয়ে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।
বিআইডব্লিও কর্তৃপক্ষ বলছে, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসারে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
ঢাকা নদী বন্দরের আওতাধীন এলাকায় ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।