এসময় একুশের চেতনায় ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষা ও দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
একুশ শিখিয়েছে মাথা নত না করতে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতির পর, সরকার বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ বছরের মর্যাদাপূর্ণ একুশে পদক বিজয়ীদের মাঝে বিতরণ করে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একুশ আমাদের মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখিয়েছে আর এখান থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে এগিয়ে যায় বাঙালি জাতি।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শুরুতেই বাংলা ভাষাসহ অধিকার আদায়ে বাঙালির আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করেন। তুলে ধরেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে উঠে আসা ভাষা সংগ্রামের ইতিহাস।
বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠাসহ দেশ গঠনে আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যা কিছু অর্জন তা এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে। বিশ্বে জাতির মর্যাদা বাড়ানোর লক্ষে তার সরকার কাজ করছে।
একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে, বিশ্বদরবারে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
সমাজের এবং মানুষের জন্য আরো ভাল কিছু করতেও একুশেকে প্রেরণা হিসেবে নেয়ার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।
সক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ২১ জনকে একুশে পদক ২০১৯’র জন্য মনোনীত করে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ পদক বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।
এ বছরের একুশে পদক বিজয়ীরা হলেন: ভাষা আন্দোলনে মরহুম অধ্যাপক হালিমা খাতুন (মরনোত্তর), যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু এবং অধ্যাপক মনোয়ারা ইসলাম একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য। আর ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য এবার একুশে পদক পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য।
প্র্রয়াত পপ শিল্পী আজম খান ও নজরুল সংগীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিলের সঙ্গে এবার সংগীত বিভাগে এ পুরস্কার পান গায়ক সুবীর নন্দী।
সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে লাকী ইনাম ও লিয়াকত আলী লাকী একুশে পদক পান অভিনয়ের জন্য।
দেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাইদা খানম আলোকচিত্রে অবদানের জন্য এবং চিত্রশিল্পী জামাল উদ্দিন আহমেদ চারুকলায় এ পুরস্কার পান।
গবেষণায় বিশ্বজিৎ ঘোষ ও মাহবুবুল হক এবং শিক্ষায় প্রণব কুমার বড়ুয়াকে এ পদক পান।
এছাড়া ভাষা সাহিত্যে রিজিয়া রহমান, ইমদাদুল হক মিলন, অসীম সাহা, আনোয়ারা সৈয়দ হক, মইনুল আহসান সাবের ও হরিশংকর জলদাস একুশে পদক পেয়েছেন।
প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন দুই লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়।
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে সরকার ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে সরকার।