পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ে অগ্নিকাণ্ডের ধংসস্তুপে এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে ভীড় করছেন স্বজনরা।
ক্ষতিগ্রস্তদের আহাজারিতে শোকাহত পুরো এলাকা। ট্র্যাজেডির তৃতীয় দিনেও আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। এখনো সেই বিভীষিকার রাত তাড়া করে ফিরছে তাদের।
এদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৭ জন। শনাক্তের পর এ পর্যন্ত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ৪৭ জনের মরদেহ। আর শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
প্রায় নির্বাক নাসির উদ্দিন তার বাইশ বছরের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে প্রাণভরে শুধু ছেলের ছবিই দেখছেন। পুত্র হারানোর শোকের এ ভার যেন আর বইতে পারছেন না তিনি।
চুড়িহাট্টার মোড়ে দাঁড়িয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, প্রায় প্রত্যেকে নিজেদের বাড়ির নিচতলায় রাসায়নিক গুদাম, প্রসাধন সামগ্রীর পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান ভাড়া দিয়েছেন।
নাসিরউদ্দিন তার একমাত্র ছেলে মো. ওয়াসিউদ্দিন মাহিদকে হারিয়েছেন।
নাসিরউদ্দিন জানান, তিনি এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। আগুনের ঘটনাটি উল্লেখ করতেই তিনি বলেন, এর একটি স্থায়ী সমাধান দরকার, পুরান ঢাকায় গৃহঋণ দেয়া হয় না। তাই এখানের লোকজন বাধ্য হয়ে বাসার নিচে রাসায়নিক গুদাম, দোকান ভাড়া দেন। এতে এককালীন আট-দশ লাখ টাকা অগ্রিম পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, গৃহঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বাসার নিচে রাসায়নিক গুদাম করা যাবে না মর্মে চুক্তি হতে হবে, গৃহঋণ দেয়া হলে কেউ বাসার নিচে দোকান, গুদাম ভাড়া দিতেন না।
আগুন কীভাবে লেগেছিল—নাসিরউদ্দিনের কাছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার, রাসায়নিক সব মিলিয়েই হয়েছে। তখন পাশ থেকে কয়েক যুবক বলে ওঠেন, ‘চাচা, কেমিক্যাল না, সিলিন্ডারের লাইগা আগুন লাগছে।
নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এসে অসুস্থ আব্দুল মান্নানের শোকার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকাটাই যেন নিত্যকাজ। স্বজন হারিয়ে দিশেহারা মান্নান।
ধংস্বস্তুপে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানেও ভীড় করছেন অনেকে। তাদের আহাজারিতে চকবাজারের বাতাস ভারী হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।
চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ে এরকম শতশত শোকগাথার দৃশ্যপট তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। চারিদিকে শুধুই স্বপ্নপোড়া গন্ধ।
এখনো আতঙ্ক কাটছে না স্থানীয়দের। ভবিষ্যতে ভয়াবহ এরকম দুর্ঘটনা এড়াতে সরকারের প্রতি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান তাদের।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি । দ্রুতই চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করা হবে বলে জানান প্রতিনিধিরা।
ঘটনার তৃতীয় দিনে চুড়িহাট্টা মোড় এলাকায় ইলেকট্রিক লাইন মেরামতের কাজ করেছে কর্তৃপক্ষ।