আবারো ফিরে এলো শোকাবহ সেই ২৫ ফেব্রুয়ারি, বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাযজ্ঞের দশ বছর।
দেশের ইতিহাসের কলঙ্কময় এক অধ্যায়। ২০০৯ সালে তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়।
বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাযজ্ঞের দুই মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আপিল চলছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল, উল্লেখ করে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকরা বলেন, সরকার ও সেনাবাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই একটি চক্র এমন ঘটনা ঘটিয়েছিল।
রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় উঠে আসে এসব কথা।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানার দরবার হলে ঘটে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। "অপারেশন ডাল ভাত" কর্মসূচির টাকা হেরফেরের অভিযোগ তুলে পিলখানায় দরবার চলাকালে হঠাৎ করেই বিদ্রোহ শুরু করে তৎকালীন বিডিআর সদস্যরা। বিডিআর প্রধান মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ও সিনিয়র কর্মকর্তাসহ ৫৭ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার শিকার হন ১৭ জন বেসামরিক ব্যক্তিও।
এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রীদের হস্তক্ষেপে আত্মসমর্পন করে বিদ্রোহীরা।
পিলখানার ভেতর থেকে একে একে উদ্ধার করা হয় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের মৃতদেহ। বেরিয়ে আসে বিডিআর জোয়ানদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।
এই ঘটনায় হত্যা এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় হলেও আপিল আদালতে মামলা এখনো ঝুলে আছে।
বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার আলী শিকদার বলেন, সরকার ও সেনাবাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করাই ছিল বিডিআর বিদ্রোহের নেপথ্যে।
ওই ঘটনা সুপরিকল্পিত বলে উল্লেখ করেছেন এ ঘটনার বিশ্লেষক আব্দুর রশিদ।
ওই সময়ে কেন পাল্টা হামলার নির্দেশ দেয়া হলো না এমন সমালোচনারও ব্যাখ্যা দেন বিশ্লেষকরা।
বিডিআর বিদ্রোহ আর একাত্তর কিংবা পঁচাত্তরের ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা বলেও মনে করেন অনেকে।
এমন নারকীয় ঘটনা যেন আর পুনারাবৃত্তি না হয় সে বিষয়ে সজাগ থাকার তাগিদ দিয়েছেন আলোচকরা।