রাজধানীর চকবাজারে আগুনের ঘটনায় নিহত ২৫ ও আহত ১০ শ্রমিককে ক্ষতিপূরণের সুপারিশ করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ‘আহতদের মধ্যে ১০ জন ও নিহতদের মধ্যে ২৫ জন শ্রমিক রয়েছেন।
রোববার মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক মো. জাকির হোসেন বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এসব শ্রমিকদের তালিকা প্রকাশ করবে।
তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে আহতদের মধ্যে ১০ জন ও নিহতদের মধ্যে ২৫ জন শ্রমিক রয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণের সুপারিশ করা হয়েছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে একলাখ এবং আহতদের ৫০ হাজার করে টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
গত বুধবার রাতে চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা যান ৬৭ জন। আহত হন আরও অনেক। এখানকার নন্দকুমার দত্ত রোডের শেষ মাথায় চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পাশে ৬৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওয়াহিদ ম্যানশন ঘিরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আবাসিক ভবনটিতে কেমিক্যাল গোডাউন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ উদঘাটন না হলেও সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। ওই দিনই শ্রম মন্ত্রণালয় দু’টি কমিটি গঠন করে। এছাড়া হতাহতদের জন্য অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।
কমিটি প্রধান জাকির হোসেন বলেন, চকবাজারের আগুনে আহতদের মধ্যে ১২ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তারমধ্যে ১০ জন শ্রমিক পাওয়া গেছে। আহত শ্রমিকদের মধ্যে রিকশাচালকসহ বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক রয়েছেন। বাকি দু’জন ব্যবসায়ী।
আর হাসপাতাল থেকে মরদেহ হস্তান্তর হওয়া ৪৭ জনের মধ্যে ২৫ জনকে শ্রমিক হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছে কমিটি।
এক প্রশ্নের জবাবে জাকির হোসেন বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত ৩৫ জন শ্রমিককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে যদি কেউ প্রমাণাদি নিয়ে আসেন তাহলে তিনিও ক্ষতিপূরণের অর্থ পাবেন।
এছাড়া, শ্রম মন্ত্রণালয় দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কেমিক্যাল মজুত ও কলকারখানা পরিদর্শন সংক্রান্ত আরেকটি কমিটি গঠন করেছিল। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ আহম্মদকে প্রধান করে সেই কমিটিকে ১০ কার্যদবিসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।