রাজধানীর চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ ১৯ জনের সন্ধানে সিআইডির কাছে ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন ৩৮ জন। সোমবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় সংস্থাটির ফরেনসিক বিভাগ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৯ জনের মরদেহের খোঁজে স্বজনরা নমুনা দিলেও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মরদেহের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।
তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেতে এক মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ার কারণে মরদেহের বেশ কিছু দেহাবশেষ একটি আরেকটির সঙ্গে মিশে গেছে। এ অবস্থায় ফরেনসিক রিপোর্ট চূড়ান্ত হলে সঠিক পরিচয় ও প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।
চকবাজার ট্রাজেডির ঘটনায় আজ সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। দেশের সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা রয়েছে।
এদিকে, ভয়াবহ ওই অগ্নি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিচারিক কমিশন গঠন ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়াসহ এসব রিটের ওপর আজ হাইকোর্টের পৃথক বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
গতকাল চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিচারিক কমিশন গঠন করা, ক্ষতিগ্রস্ত আহত-নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে দিক নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করেছেন হাইকোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। পুরানো ঢাকার ঘন-বসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা থেকে অবিলম্বে রাসায়নিক ও বিস্ফোরক দ্রব্য সরানোর নির্দেশনা চেয়ে আরেকটি রিট করেছেন আইনজীবী সেগুফতা তাবাসুম আহমেদ।
এছাড়া নিমতলী ও চকবাজারের অগ্নি দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নূর মোহাম্মাদ আজমী ও খন্দকার সায়েদুল কাউসার আরো একটি রিট করেছেন। সারাদেশে রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থের উৎপাদন, ব্যবহার, বাজারজাতকারণ ও সংরক্ষণে বিশেষ আইন ও নীতিমালা প্রনোয়ণের নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়েছে।
গত বুধবার রাতে চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা যান ৬৭ জন। আহত হন আরও অনেক। এখানকার নন্দকুমার দত্ত রোডের শেষ মাথায় চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পাশে ৬৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওয়াহিদ ম্যানশন ঘিরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আবাসিক ভবনটিতে কেমিক্যাল গোডাউন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, শনাক্তের পর এ পর্যন্ত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ৪৭ জনের মরদেহ। হাসপাতালে ভর্তি ৯ জনের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।