সীমাহীন অনিশ্চয়তায় রাষ্ট্রহীন শরণার্থী হিসেবে বেড়ে উঠছে রোহিঙ্গা শিশুরা।
শিক্ষা নেই, স্বাস্থ্য সেবা নেই— তাই ভবিষ্যত নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন এবং ঝুঁকিতে আছে রাখাইন থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত হওয়া রোহিঙ্গা শিশুরা।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে বুধবার দুপুরে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে ইউনিসেফ।
আর শুধু মানবিক সহায়তা দিয়ে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয় বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মানবিক দূত আহমেদ আল মেরাইখি।
রাজনৈতিকভাবে সংকটের সমাধানের কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছে এসব শিশু, কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিক নয়, ওরা যে দেশের নাগরিক সেই মিয়ানমারও ওদেরকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করছে না। ফলে রাষ্ট্রহীন শরণার্থী হিসেবেই রোহিঙ্গা শিবিরে বেড়ে উঠছে ওইসব শিশুরা।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, কক্সবাজারে এমন রোহিঙ্গা শিশুর পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ। শিক্ষা নেই, স্বাস্থ্য সেবা নেই। মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠার ন্যূনতম সুযোগ সুবিধাও মিলছে না আশ্রয় শিবিরে।
ইউনিসেফ বলছে, তাদের জন্য যে পরিমাণ অর্থ সহায়তা দরকার মিলছে তার সামন্যই। চাহিদার মাত্র ২৯ শতাংশ।
কিন্তু এ আর্থিক ও মানবিক সহায়তাই কি যথেষ্ট? জাতিসংঘের মহাসচিবের মানবিক বিষয়ক দূতের মতে, এদের জন্য সবার আগে দরকার নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা, স্থায়ী ঠিকানা। যার সমাধান আসতে পারে একমাত্র রাজনৈতিকভাবে।
ইউনিসেফ বলছে, নিরাপত্তা ও সম্মান পেলে রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরতে প্রস্তুত রয়েছে।