বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সবচেয়ে ঘটনাবহুল মাস- মার্চের প্রথম দিন আজ (শুক্রবার)। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার সংগ্রামের পথ পেরিয়ে পাকিস্তানি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে ১৯৭১ সালের এ মাসেই শুরু হয়েছিল দুর্বার আন্দোলন।
সেই আন্দোলন পরিণতি পায় সশস্ত্র সংগ্রামে, শুরু হয় গৌরবের মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসের যুদ্ধ জয়ে জন্ম নেয় স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশ।
হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালির সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতার মাস মার্চ ফিরে এলো আবার।
৫২'র ভাষা আন্দোলনের পরে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ বপনের পাশাপাশি স্বাধিকার আন্দোলনের পথ ধরে ধীরে ধীরে তা মহীরুহের রূপ ধারণ করে। ৭০-এর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে পাকিস্তানি শাসকযন্ত্র।
জেনারেল ইয়াহিয়া ১ মার্চ হঠাৎ করেই ৩ মার্চের পূর্বনির্ধারিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। এরপরই আস্তে আস্তে বিক্ষোভ দানা বাধঁতে শুরু করে। পরাধীন জনমনে স্বাধীনতার তৃষ্ণাই অকেজো করে দেয় ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র পাকিস্তানের ভিত।
উন্মেষ উত্তেজনায় ফুঁসতে থাকে বাংলাদেশ। ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে সংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এর পরের ঘটনাপ্রবাহ প্রতিরোধের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা হয়। এরপর দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্রযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে জাতি লাভ করে স্বাধীনতা। বিশ্ব মানচিত্রে যুক্ত হয় নতুন দেশ-বাংলাদেশ।