পুরান ঢাকা থেকে সব রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরিয়ে ফেলতে সোমবার -চতুর্থ দিনেও সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে জাতীয় টাস্কফোর্সের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাসায়নিক অপসারণে সহযোগিতার কথা জানালেও প্লাস্টিকের গুদাম সরাতে অনিচ্ছুক সেখানকার ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, প্লাস্টিক দাহ্য নয়— অন্যত্র পুনর্বাসন করার আগ পর্যন্ত প্লাস্টিকের গুদাম না সরানোর দাবি করেছে।
চকবাজারের চুড়িহাট্টার আশপাশের অলিগলিতে রাসায়নিক ও প্লাস্টিক কারখানা অপসারণের জন্য সোমবার অভিযান চালায় সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে গঠিত টাস্ক ফোর্স। সেখানে কয়েকটি আবাসিক বাড়িতে ঢুকে তারা রাসায়নিক প্লাস্টিকের গুদামের সন্ধায় পায়। অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসব গুদাম দ্রুততম সময়ের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তারা।
গুদাম অপসারণের সরাসরি বিরোধিতা না করলেও, চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা।
তাদের দাবি, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থের গুদাম অপসারণে তারা সাহায্য করতে প্রস্তুত আছেন। কিন্তু প্লাস্টিকের ব্যাপারে আপত্তি করেন তারা।
প্লাস্টিক যে দাহ্য নয় এর সপক্ষে প্রমাণ দেয়ারও চেষ্টা করেন অনেকে।
তবে দক্ষিণ সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শরিফ আহমেদ জানান, পুরান ঢাকায় রাসায়নিক থাকবে না, প্লাস্টিকও থাকবে না।
চুড়িহাট্টায় এই মোড়েই, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছে ৭১ জন। একদা কর্মচঞ্চল এ এলাকায় এখন ছেয়ে আছে শুধুই শোকবার্তার ব্যানারে।
গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কোনো বাধাতেই গুদাম সরানোর কাজ থেমে যাবে না।
সোমবার সকালে রাসায়নিকের গুদাম উচ্ছেদে একসঙ্গে পাঁচ জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের টাস্কফোর্স।
সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় জানান, সকাল থেকে তাদের পাঁচটি দল এ অভিযানে রয়েছে।
এরমধ্যে দক্ষিণ সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শরিফ আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চকবাজারের হরনাথ ঘোষ রোডে অভিযান শুরু করে।
অভিযানের শুরুতেই হরনাথ ঘোষ রোডের ৯৫/৫ নম্বর হোল্ডিংয়ে একটি একতলা বাড়ির সামনের অংশে রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থের একটি গুদাম পান, পরে ওই গুদামের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
ওই বাড়ির মালিক হাজি মুহাম্মদ আলমাস বলেন, মাসে আট হাজার টাকায় বাকের হোসেন নামের একজনকে বাড়ির সামনের অংশ গুদাম হিসেবে ভাড়া দিয়েছি। পরে তাকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
একই রোডের আরেক বাড়িতে রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থের গুদামের পাওয়া গেলে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগেই মালামাল সরিয়ে ফেলেছে মালিকপক্ষ। এরপর কে বি রুদ্র রোডেও একটি বাড়িতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি চরবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জনের প্রাণহাণির পর পুরান ঢাকা থেকে সব রাসায়নিকের গুদাম সরাতে সময় বেধে দেয় সরকার।
এর আগে নয় বছর আগে নিমতলীতে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পরও পুরান ঢাকার সব রাসায়নিকের গুদাম সরিয়ে ফেলার সুপারিশ করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগ নেয়া হলেও ব্যবসায়ীদের অসহযোগিতায় তা সম্ভব হয়নি।
চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের পর সরকার আবারও উদ্যোগী হলে প্রথমদিনই আপত্তি তোলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভবন মালিকদের অনেকে। রোববার লালবাগের শহীদনগর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। তাদের প্রায় দুই ঘণ্টা একটি প্লাস্টিক কারখানায় অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।
নিমতলী অগ্নিকাণ্ড ঘটনার উদাহরণ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, কেমিক্যাল ব্যবসা সংক্রান্ত একটি নীতিমালা হচ্ছে–শিগগিরই ওই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
সচিবালয়ে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।